আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিদেশি স্ট্রাইকার নেওয়া হয়ে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। ইউসেফ এজেজারি আসছেন লাল-হলুদে। তবে তাঁর ভিসা বাতিল হয়েছে। নতুন করে ভিসার জন্য তাঁকে আবেদন করতে হবে। 

এর মধ্যেই খবর, ইস্টবেঙ্গল সই করিয়েছে জেরিকে। নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড, জামশেদপুর, ওড়িশার হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে জেরির। সেই জেরি সম্পর্কে ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজোঁ বলেছেন, ''জেরিকে সই করিয়ে আমরা পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছি। ভারতীয় ফুটবলে খুবই প্রতিভাবান একজন প্লেয়ার জেরি। গতি এবং তাঁর দক্ষতা দিয়ে যে কোনও সময়ে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। আমাদের দর্শনের সঙ্গে জেরির খেলা মিলে যায়।'' 

ভারতীয় ফুটবলে জেরি বেশ পরিচিত নাম। ২০১৪-১৫ মরশুমে মিজোরামের ডিএসকে শিবাজিয়ান্স-লিভারপুল অ্যাকাডেমিতে ট্রায়াল দেন জেরি। সেখানকার কোচরা জেরির মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পান। কোচরা স্থির করেন মিজোরাম প্রিমিয়ার লিগে চানমারি এফসি বনাম চানমারি ওয়েস্ট ম্যাচে জেরিকে তাঁরা দেখবেন।
জেরি সেই ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে খেলতে নামেন। মাঠে নামার পরে জেরি বেশ কয়েকটা ট্যাকল করেন। তার পরে প্রতিপক্ষের গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়ান। ডিএসকে-র কোচ ডেভ রজার্স স্ট্যান্ডে ছিলেন। তিনি জেরিকে দেখে দারুণ খুশি হন।
ইন্ডিয়ান সুপার লিগে জামশেদপুরের হয়ে কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে আইএসএলের দ্রুততম গোল করেছিলেন। ২২.৮ সেকেন্ডে গোলটি করেছিলেন জেরি।
২০১৭ সালের ফেডারেশেন কাপে ডিএসকে শিবাজিয়ান্স ও বেঙ্গালুরু এফসি-র ম্যাচের কথা অনেকেরই মনে আছে। জেরি বনাম সুনীল ছেত্রীর লড়াই ছিল দেখার মতো। সেই সময়ে জেরির বয়স মাত্র ২০। ডেভ রজার্স তাঁকে সুনীল ছেত্রীকে মার্কিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। রজার্স বলেছিলেন, ''সুনীল যদি টয়লেটেও যায়, তুমিও সেখানে যাবে।''
সেই ম্যাচে জেরির জন্য সুনীল তিনবার জায়গা বদল করেন। কিন্তু জেরি তাঁর পিছন ছাড়েননি। শেষপর্যন্ত শিবাজিয়ান্স ২-০ গোলে হারায় বেঙ্গালুরুকে।
ওড়িশার হয়ে জেরি ১১২টি ম্যাচ খেলেছেন। ১৭টি গোল করেছেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে তিনি উইং ধরে উড়বেন, এমনটাই আশা করছেন সমর্থকরা।