আজকাল চাকরি পরিবর্তন একটি সাধারণ ঘটনা, কিন্তু এর ফলে একটি বড় সমস্যা দেখা দেয়। তৈরি হয়ে যেতে পারে দু'টি পিএফ অ্যাকাউন্ট। যখন একজন কর্মচারী একটি নতুন কোম্পানিতে যোগদান করেন, তখন তাঁর জন্য একটি নতুন পিএফ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, অথচ পুরানো অ্যাকাউন্টটিও সক্রিয় থাকে। এর ফলে কর্মচারীর দু'টি বা তার বেশি পিএফ অ্যাকাউন্ট হয়ে যায়। যদি এগুলো সময়মতো মার্জ করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে টাকা তোলা এবং কর সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
2
6
পিএফ অ্যাকাউন্ট মার্জ করা কেন জরুরি? পিএফ অ্যাকাউন্ট মার্জ করলে গ্রাহকের পুরো ব্যালেন্স এক জায়গায় সুরক্ষিত থাকে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে সুদের সুবিধা পাওয়া যায়। অ্যাকাউন্টগুলো আলাদা থাকলে সুদ গণনা এবং টাকা তোলার ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে। এছাড়াও, করের নিয়মাবলীর দিক থেকেও মার্জ করা উপকারী।
3
6
পিএফ অ্যাকাউন্ট মার্জ করার প্রক্রিয়া: ১) প্রত্যেক কর্মচারীকে একটি UAN (ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর) দেওয়া হয়, যা স্থায়ী। ২) EPFO পোর্টালে গিয়ে KYC আপডেট করা বাধ্যতামূলক। ৩) এরপর, ফর্ম ১৩ পূরণ করে পুরানো অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স নতুন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। ৪) মার্জ করার পর, পুরানো অ্যাকাউন্টটি খালি হয়ে যায় কিন্তু রেকর্ডে থেকে যায়।
4
6
কখন পিএফ তোলা করমুক্ত হয়? ১) যদি কর্মচারী ৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে চাকরি করে থাকেন, তবে পিএফ তোলা সম্পূর্ণ করমুক্ত।
২) তবে, যদি চাকরির মেয়াদ ৫ বছরের কম হয় এবং কর্মচারী পিএফ তোলেন, তবে এর উপর টিডিএস এবং আয়কর ধার্য হতে পারে। ৩) যদি অ্যাকাউন্টগুলো মার্জ করা না হয় এবং বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়, তবে করের বোঝা আরও বাড়তে পারে।
5
6
কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: ১) চাকরি পরিবর্তনের পর একটি নতুন পিএফ অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়, তাই অবিলম্বে মার্জ করার প্রক্রিয়া শুরু করুন। ২)এই প্রক্রিয়াটি EPFO ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই সম্পন্ন করা যায়। ৩) কর এড়াতে ৫ বছরের আগে পিএফ না তোলার চেষ্টা করুন। ৪) মার্জ করলে আপনার টাকা সুরক্ষিত থাকবে এবং আপনার অবসরকালীন তহবিল শক্তিশালী হবে।
6
6
পিএফ অ্যাকাউন্ট মার্জ করা প্রত্যেক চাকরিজীবীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটা কেবল আপনার টাকাই সুরক্ষিত রাখে না, বরং কর সংক্রান্ত জটিলতাও এড়ায়। সঠিক সময়ে মার্জ করা এবং বুদ্ধি করে টাকা তুললে আপনার অবসরকালীন তহবিলকে শক্তিশালী করা সম্ভব।