অগ্নি পাণ্ডে

‘‌চোকার্স’‌ চোকার্সই থেকে গেল। বদলাল না। বরাবরের মতোই বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল থেকেই ছিটকে যেতে হল। তা সে বার্মিংহাম হোক কিংবা ইডেন। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে সামনে অস্ট্রেলিয়া পড়লে দক্ষিণ আফ্রিকার আর কিছু করার থাকে না। ইডেনেও তার ব্যতিক্রম হল না। ৭ উইকেটে জিতে অস্ট্রেলিয়া আবার ফাইনালে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবারও পারল না।
ইংরেজিতে একটা কথা প্রায়শই শোনা যায়। ‘‌গুড টস টু লুজ’‌। মেঘলা আবহাওয়ায় বেলা দেড়টায় টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা কেন প্রথমে ব্যাটিং নিলেন তা নিয়ে তাঁর দেশেরই সাংবাদিকরাই বিস্মিত। বাভুমার আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত ব্যাকফুটে ঠেলে দিল। ইডেনে গঙ্গার হাওয়া এবং বুনোট মেঘের জমাট অস্ট্রেলীয় বোলারদের হাতে তখনই যেন কলকাতা–আমেদাবাদ উড়ানের টিকিট তুলে দিয়েছিল। 

‌ক্রিকেটবোদ্ধারা বলাবলি করছিলেন দিনকয়েক আগে থেকেই। ভারত যতই মুম্বইয়ে সেমিফাইনাল খেলুক না কেন, আসল সেমিফাইনাল হবে ইডেনেই। দুই যুযুধান পক্ষ কেউ কাউকে সহজে জমি ছেড়ে দেবে না। দিলও না। সেটাই দেখল ইডেন। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও বোলিংয়ে নিজেদের ছাপিয়ে গেলেন রাবাডা, সামসিরা। তবে, জন্টি রোডসের দেশ পাঁচখানা ক্যাচ না ফেললে অসি অহমিকা চূর্ণ হত। ২১৩ রান তুলতে গিয়ে দম বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল।
প্রোটিয়া মিস্ট্রি স্পিনার তাবরেজ সামসিকে ইডেনের বাইশ গজে খেলতে লাবুশেন, ম্যাক্সওয়েলদের নাকানি–চোবানি খেতে হল। শুরুতে চালিয়ে খেলা ওয়ার্নার ফেরার পর চালাচ্ছিলেন অপর বাঁহাতি ওপেনার ট্রাভিস হেড (‌৪৮ বলে ৬২, ৯টি চার, ২টি ছয়)‌। তিনি ফিরতে চাপ বাড়ল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াকু স্মিথই (৬২ বলে ৩০, ২টি চার)‌‌ দলকে ভরসা দিচ্ছিলেন। তিনি আউট হতে চাপে অস্ট্রেলিয়া। পরের দিকে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সরা ঠান্ডা মাথায় বাকি কাজটুকু সেরে ফেললেন। 

দুপুরের ইডেনে মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, কামিন্সরা বাইশ গজে আগুন ঝরালেন। বল তুললেন বুক উচ্চতায়। স্যুইং করালেন। নাজেহাল প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপ। যেন টেস্ট ম্যাচ বোলিং। গতির হেরফেরের সঙ্গে স্যুইংয়ে কেঁপে উঠল জোহানেসবার্গ। চলতি বিশ্বকাপে একটা প্রশ্ন শোনা গেছে। কেন খেলছেন?‌ শুধু কি নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য?‌ তিনি বসলে রেজা হেনরিক্সের মতো ওপেনারকে খেলানো যায়। যিনি পরীক্ষিতও। বাভুমা টস জিতে ভুল সিদ্ধান্ত নিলেন। আগে ব্যাটিং না করে তিনি অসি ব্যাটারদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে পারতেন রাবাডা, এনগিডি, জানসেনদের। সেটা করলেন না। নিজে আগে স্টার্কের স্যুইংয়ে মিষ্টি খোঁচা দিয়ে ফিরলেন। তারপর হারাকিরি লেগে গেল। ভাল করে বোঝার আগেই ইডেন দেখল প্রোটিয়ারা মাত্র ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে! বোলিংয়ের পাশাপাশি অসি ফিল্ডিং তাক লাগিয়ে দিল।‌

মাঝে ৩:‌১০ থেকে ৩:‌৫৫ পর্যন্ত ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে মাঠ ভিজে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে খানিকটা ফেরার চেষ্টা করে। হেনরি ক্লাসেন–ডেভিড মিলার জুটি পঞ্চম উইকেটে ৫৪ রান যোগ না করলে আরও মুখ পুড়ত বাভুমাদের। ক্লাসেন (‌৪৮ বলে ৪৭, ৪টি চার, ২টি ছয়)‌ ফেরার পর হাল ধরেন ‘‌কিলার’‌ মিলার। চলতি বিশ্বকাপে লখনউয়ের পর ইডেনে আবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শতরান করলেন। মিলার তারপর কোয়েটজিকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৫৩ রান জোড়েন। দেখতে দেখতে মিলার (‌১১৬ বলে ১০১, ৮টি চার, ৫টি চার)‌ দলকে মোটামুটি ভদ্রস্থ জায়গায় নিয়ে যান। ৪৯.‌৪ ওভারে ২১২ রানে অলআউট প্রোটিয়ারা। যা জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না।