আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারেবারে মিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেটারদের। বিরাট কোহলির পর এবার রোহিত শর্মা।
জানা গেছে, ইন্দোরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষের পর টিম হোটেলে ঢুকছিলেন রোহিত শর্মা। হঠাৎ নিরাপত্তাকর্মীদের টপকে এক মহিলা চলে আসেন হিটম্যানের সামনে। এমনকী তাঁর হাত ধরে টানও দেন। আচমকা এই ঘটনায় চমকে যান সকলেই। কিন্তু কেন এরকম কাণ্ড ঘটালেন ওই মহিলা? অবশেষে মুখ খুললেন তিনি। কোনও সেলফির লোভে নয়, বরং নিজের সন্তানকে বাঁচানোর জন্যই তিনি এরকম কাজ করেছেন বলে জানান।
শুধু তাই নয়, ‘আমাকে বাঁচান’ বলে তিনি রোহিতের হাত চেপে ধরেন। রোহিত হকচকিয়ে যান। এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সরিতা শর্মা নামে ওই মহিলা নিজেই জানিয়েছেন, কেন তিনি এরকম করেছেন। ভিডিও বার্তায় সরিতা বলেছেন, ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই তিনি তাঁর কাছে চলে গিয়েছিলেন। তাঁর মেয়ে আনিকা একটি জটিল রোগে ভুগছে এবং তার চিকিৎসার জন্য একটি ইঞ্জেকশন প্রয়োজন যার দাম ৯ কোটি টাকা। আর্থিক সাহায্য চাইতেই তিনি রোহিতের কাছে গিয়েছিলেন।
ভিডিও বার্তায় সরিতা বলেন, ‘আমার নাম সরিতা শর্মা। আমার মেয়ে আনিকা একটি জটিল রোগে আক্রান্ত। তাকে বাঁচাতে আমাদের একটি ইঞ্জেকশন দরকার, যার দাম ৯ কোটি টাকা। এটা আমেরিকা থেকে আনতে হবে। আমরা টাকা সংগ্রহের জন্য ছোট ছোট ক্যাম্প করছি। এখনও পর্যন্ত আমরা ৪.১ কোটি টাকা তুলতে পেরেছি। আমাদের হাতে সময় খুব কম।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত–নিউজিল্যান্ড ম্যাচ চলাকালীন আমরা সাহায্যের আশায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। ম্যাচের সময় আমরা একটা ক্যাম্পও করেছিলাম। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। আমি বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছিলাম। কারণ, ওঁরা শিশুদের সাহায্য করে থাকেন। আমার সন্তানকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় আমি সেই হোটেলে গিয়েছিলাম। আবেগের বশে আমি ওঁর হাত ধরে ফেলি।’
ক্ষমাও চেয়েছেন সরিতা। বলেন, ‘আমি বিরাট স্যর এবং রোহিত স্যরের কাছে আবেদন করতে চাই। আমি ওখানে সেলফি তুলতে যাইনি। আমি শুধু আমার সন্তানের জীবন বাঁচাতে চাই। আমার আচরণের জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এছাড়া আমি আর কী করতে পারতাম জানি না। আমি বিরাট ও রোহিতকে অনুরোধ করছি, যদি আমার এই বার্তা পান, তবে দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।’
