কৌশিক রায়:
ইস্টবেঙ্গল ১ (ইউসেফ)
কেরল ব্লাস্টার্স ১ (আজসাল)
আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে চলতি ইন্ডিয়ান সুপার লিগের একটা সাধারণ ম্যাচ। এদিন ৯০ মিনিটের খেলার পর ম্যাচ রিপোর্টেও বিশেষ কিছু লেখার নেই। যা ঘটনা ঘটল তা পুরোটাই গ্যালারিতে আর স্টেডিয়ামের বাইরে। নিশ্চিত তিন পয়েন্ট এদিন মাঠে ফেলে এল ইস্টবেঙ্গল। আর তার ফলে যা হওয়ার তাই হল, যে মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গল গোল এল তারপর থেকেই স্টেডিয়াম জুড়ে শুরু হল 'গো ব্যাক অস্কার' স্লোগান। তাদের বক্তব্য, কেরল এদিন কার্যত লিগ জেতার দৌড় থেকে ইস্টবেঙ্গলকে ছিটকে দিল। এমন একটা দলের বিরুদ্ধে এদিন লাল হলুদ বাহিনী নেমেছিল যারা এখনও পর্যন্ত লিগের একটা ম্যাচও জেতেনি। বরং এদিন ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধেই প্রথম পয়েন্ট পেল কেরল। ৯০ মিনিটের অত্যন্ত হতাশাজনক ফুটবল, পেনাল্টি থেকে ইউসুফ গোলটা না করলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতেই পারত।
ম্যাচ শেষে অবশ্য অস্কার ব্রুজো এসব নিয়ে কিছু বললেন না। বলে গেলেন, 'আমরা তিন নম্বরে আছি। গোটা ম্যাচটাও আমরাই ভাল খেলেছি। সামনের ম্যাচে আমরা আবার জয়ে ফিরব, সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে ফুটবলারদের ওপর।' এদিন যুবভারতীতে ম্যাচের ৯ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করেন ইউসেফ। ডানদিক থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে মহম্মদ রশিদের পা থেকে বল পান এডমুন্ড। তাঁর মাইনাসে ইউসেফ বক্সের ভিতর গোল করার জন্য পা বাড়ালেও তাঁকে ফাউল করেন আইবান। রেফারি ফাউল দেন। পেনাল্টি থেকে গোল করতে কোনও ভুল করেননি স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। ৯ মিনিটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন তিনি। ১৮ মিনিটে এজেজারির পাস থেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সউল ক্রেসপো। ব্যস, ওখানেই শেষ। পিছিয়ে গিয়ে এদিন পরপর আক্রমণ তুলে আনে কেরল।
লাল হলুদ মাঝমাঠকে যতটা সম্ভব বোতলবন্দি করে রাখার চেষ্টা করছিল তারা। ম্যাচের বাকি সময়ও ইস্টবেঙ্গলের খেলায় আক্রমণের ঝাঁঝ একেবারেই দেখা যায়নি। বরং, বলের দখল রেখে কেরলকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায়। বিশেষ করে দুই উইংকে কাজে লাগিয়ে পরপর লাল হলুদের বক্সে আছড়ে পড়ছিল ক্রস। কিন্তু গোল আসেনি আর। ৪৪ মিনিটে সুযোগও এসেছিল কেরলের কাছে। কর্নার থেকে ডিফেন্ডার ফালাউয়ের ফ্রি হেডার অল্পের জন্য বাইরে বেরিয়ে যায়। নয়তো প্রথম হাফেই সমতা ফেরাতে পারত ইয়েলো ব্রিগেড। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের ছবিটা একই রকম। জোড়া পরিবর্তনেও ব্যবধান আরও বাড়াতে পারেনি লাল হলুদ। ৫৩ মিনিটে সাউল ক্রেসপোর জায়গায় আসেন সৌভিক চক্রবর্তী। ৬৫ মিনিটে এডমুন্ডের জায়গায় জয় গুপ্তা। ৬৮ মিনিটে গোলের ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল মহম্মদ রশিদের কাছে। মিগুয়েল ডি বক্সে কর্নার না রেখে বক্সের বাইরে দাঁড়ানো রশিদকে দেন। চলতি বলেই প্যালেস্তাইন তারকার গোলার মতো শট গোলে রাখলে সমতা বাড়ানো যেত। কিন্তু খেলার একদম শেষে ফলাফল ঘুরে যায়। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকে গোল করে সমতা ফেরায় কেরল। মহম্মদ আজসালের গোলে ১ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা ছাড়ল কেরল ব্লাস্টার্স। উল্লেখ্য, শুক্রবার প্রয়াত হয়েছেন প্রাক্তন ফেডারেশন সচিব কুশল দাস। এদিন তাঁর স্মৃতিতে খেলা শুরুর আগে নীরবতা পালন করেন ফুটবলাররা।
