আজকাল ওয়েবডেস্ক: লিডস ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ড্র করার পর ক্লাবের বোর্ডের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড কোচ রুবেন অ্যামোরিম।
তার একদিনের মধ্যেই অ্যামোরিমকে প্রধান কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। ক্লাবের তরফে জানানো হয়েছে, অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
১৪ মাস ধরে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন অ্যামোরিম। তার অধীনে গত মরশুমে উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনালে পৌঁছেছিল দল।
চলতি প্রিমিয়ার লিগে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড। তবে পর্দার আড়ালে সম্পর্কের গুরুতর অবনতি হওয়ায় অবশেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ক্লাবের প্রাক্তন মিডফিল্ডার ও অনূর্ধ্ব-১৮ দলের কোচ ড্যারেন ফ্লেচারকে অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই নতুন হেড কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইউনাইটেডের বিশেষ কমিটি। যার মধ্যে রয়েছেন সিইও ওমর বেরাদা এবং ফুটবল ডিরেক্টর জেসন উইলকক্স।
ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হেড কোচ হিসেবে রুবেন অ্যামোরিম তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে দল ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও, বোর্ড মনে করেছে এই মুহূর্তে কোচ পরিবর্তনই দলের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য লিগ ফিনিশ নিশ্চিত করার সেরা উপায়।’
সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত বছর স্পোর্টিং সিপি ছেড়ে ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার সময় অ্যামোরিম যে চুক্তি সই করেছিলেন, তার মেয়াদ ছিল ২০২৭ সাল পর্যন্ত, সঙ্গে অতিরিক্ত এক বছরের অপশন।
ফলে তাঁকে বরখাস্ত করায় পুরো চুক্তির অর্থই পরিশোধ করতে হবে ক্লাবকে। লিডসের বিরুদ্ধে এল্যান্ড রোডে ড্রয়ের পর অ্যামোরিম প্রকাশ্যে বোর্ডের সঙ্গে মতবিরোধের ইঙ্গিত দেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে ইউনাইটেডের ‘ম্যানেজার’ মনে করেন, ‘হেড কোচ’ নয়, যা সরকারি ভাবে তাঁর পদবিতে লেখা ছিল। অ্যামোরিম বলেছিলেন, ‘আগামী ১৮ মাস এমনভাবেই চলবে যতদিন না বোর্ড পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমি পদত্যাগ করব না। যতদিন না অন্য কেউ এসে আমাকে বদলাচ্ছে, ততদিন আমি আমার কাজ করে যাব।’
উল্লেখ্য, গত মরশুমে এরিক টেন হ্যাগকে বরখাস্ত করার পর স্পোর্টিং সিপি থেকে অ্যামোরিমকে আনতে ১ কোটি ১০ লক্ষ ইউরো খরচ করেছিল ইউনাইটেড।
তবে তাঁর অধীনে প্রিমিয়ার লিগে ভরাডুবি এড়ানো যায়নি। ম্যান ইউ শেষ করেছিল ১৫তম স্থানে। ঘরোয়া কাপ প্রতিযোগিতাতেও ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়। এফএ কাপে পঞ্চম রাউন্ডে ফুলহ্যামের কাছে এবং ক্যারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টটেনহ্যাম হটস্পারের কাছে বিদায় নিতে হয়।
ইউরোপে অবশ্য শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল ইউনাইটেড। ইউরোপা লিগের ফাইনালে উঠলেও বিলবাওয়ে নির্ণায়ক ম্যাচে আবারও টটেনহ্যামের কাছে পরাজিত হয় তারা।
এর ফলে ২০২১–২২ সালের পর প্রথমবার ট্রফিশূন্য মরশুম কাটে ইউনাইটেডের। ২০১৪ সালের পর প্রথমবার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেনি ক্লাব।
২০১৩ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন অবসর নেওয়ার পর থেকে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছ’বার ম্যানেজার বদল করেছে। কিন্তু কেউই দলকে লিগ শিরোপা এনে দিতে পারেননি।
এই সময়ে সেরা ফল ছিল লিগে দ্বিতীয় স্থান। ২০১৭–১৮ মরশুমে জোসে মরিনহো এবং ২০২০–২১ মরশুমে সোলশায়ারের অধীনে। পরপর কোচ পরিবর্তনের জন্য গত এক দশকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ কোটি পাউন্ডেরও বেশি অর্থ খরচ করতে হয়েছে ক্লাবকে।
