শীত এলেই রান্নাঘরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সবজির তালিকায় মটরশুঁটির নাম সবার উপরে থাকে। তরকারি হোক, পোলাও, কচুরির পুর কিংবা স্যুপ, মটরশুঁটি ছাড়া শীতের স্বাদ যেন অসম্পূর্ণ। তবে যতটা সুস্বাদু মটরশুঁটির পদ, ততটাই ঝামেলার কাজ হল মটরশুঁটি ছাড়ানো। অনেক সময় এক কিলো মটরশুঁটি ছাড়াতেই অনেক সময় লেগে যায়। আঙুলে ব্যথা ধরে, হাতও ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
2
6
আপনিও যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মটরশুঁটি ছাড়াতে বিরক্ত হন বা এই কাজ এড়িয়ে চলতে চান, তাহলে এই পদ্ধতিটি আপনার জন্য দারুণ উপকারী। এখানে শুধু গরম ও ঠান্ডা জলের সঠিক ব্যবহার করা হয়, যার ফলে মটরশুঁটির খোসা নিজে থেকেই খুলে যায়।
3
6
প্রথমে সমস্ত মটরশুঁটিগুলো ভাল করে ধুয়ে নিন। এবার একটি বড় পাত্রে প্রায় এক লিটার জল গরম করুন। খেয়াল রাখবেন, জল যেন ফুটে না ওঠে, শুধু এতটাই গরম করুন যাতে হালকা ধোঁয়া উঠতে শুরু করে। জল ফুটে ওঠার ঠিক আগে তাতে সমস্ত মটরশুঁটি দিয়ে দিন। এরপর গ্যাস বন্ধ করে পাত্রটি ঢেকে দিন। এই গরম জলে মটরশুঁটি প্রায় দু’মিনিট রেখে দিন। এতে মটরশুঁটি রান্না হয় না, শুধু খোসা একটু নরম হয়ে যায়। এই ধাপটিই এই ট্রিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
4
6
এবার অন্য একটি পাত্রে খুব ঠান্ডা জল নিন। চাইলে তাতে বরফও দিতে পারেন। গরম জল থেকে মটরশুঁটি তুলে সঙ্গে সঙ্গে এই ঠান্ডা জলে দিয়ে দিন। হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে মটরশুঁটির খোসা আরও ঢিলে হয়ে যায়। ঠান্ডা জলে এক-দু’মিনিট রাখার পর আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে মটরশুঁটিগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি নরম হয়ে গিয়েছে। ফলে মটরশুঁটির দানা খুব সহজেই বেরিয়ে আসে।
5
6
এছাড়াও মটরশুঁটি ছাড়ানোর দু’টি সহজ পদ্ধতি আছে। মটরশুঁটির এক প্রান্তে হালকা চাপ দিন। চাপ দিতেই দানাগুলো নিজে থেকেই বেরিয়ে আসবে। এতে আঙুলে বিশেষ চাপ পড়ে না।
6
6
আরও সহজ পদ্ধতি হল, মটরশুঁটি দু’হাতের তালুর মাঝে রেখে হালকা করে ঘষা। এতে খোলস নিজে থেকেই খুলে যায় এবং সব দানা বেরিয়ে আসে। এই উপায়ে একসঙ্গে অনেকটা মটরশুঁটি ছাড়ানো যায়।