আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার রবিন উথাপ্পা মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত চতুর্থ অ্যাশেজ টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের উদ্দেশে ধৈর্য ধরে খেলার পরামর্শ দিয়েছেন।

তার মতে, কঠিন পিচে চেতেশ্বর পূজারা ও অজিঙ্ক রাহানের মতো ধৈর্যশীল মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করলে সাফল্য আসতে পারে। মেলবোর্ন টেস্টে সবুজ উইকেটে ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের সামনে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৫২ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে যায়।

এই ব্যাটিং ধসের ফলেই ১৫ বছরেরও বেশি সময় পর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ হারতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে। ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর ইতিমধ্যেই প্রাক্তন ওপেনার ম্যাথিউ হেডেন অস্ট্রেলিয়ান কোচিং সেট-আপে পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।

এই পরিস্থিতিতে উথাপ্পা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের জন্য ধৈর্য ও লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, ‘এমন কোনও উইকেট নেই যেখানে ব্যাটিং করা যায় না। মেলবোর্নে এমন উইকেট তৈরি করা হয় যা ফাস্ট বোলারদের জন্য বেশ সহায়ক। তবে বর্তমান যুগে যে মানসিকতা নিয়ে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে, সেখানেই সমস্যা। আমার মনে হয় এই পিচগুলো কিছুটা আনস্পোর্টিং। কিন্তু যদি সঠিক টেকনিক, সঠিক মানসিকতা এবং লড়াই করার মানসিকতা থাকে। তাহলে এমন উইকেটেও সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এটা কোনও হাই-স্কোরিং ম্যাচ নয়, ৩০০ প্লাস হবে না, কিন্তু ২৫০ রান করাও অসম্ভব নয়। লড়াই করতে হবে। পূজারা আর অজিঙ্কা রাহানের মতো করে খেললে কিন্তু রান আসবেই।’

উথাপ্পা আরও উল্লেখ করেন যে, এমন কঠিন পিচে ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার জো রুটও ব্যর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি মাত্র দু’দিনের মধ্যে টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়া নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি এটা একটু সাবধানতার সঙ্গেই বলছি। কারণ টেস্ট ক্রিকেট খেলার ধরণ এখন বদলে গেছে। দু’দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়া অ্যাশেজ টেস্ট আমি সত্যিই উপভোগ করি না। বিনোদনের জন্য খেলাটার সঙ্গে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। মেলবোর্নের ম্যাচে জো রুটকেও বিভ্রান্ত দেখিয়েছে। রুট বুঝতেই পারছিল না আক্রমণাত্মক খেলবে নাকি নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলবে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমি ওদের পরিস্থিতিটা বুঝতে পারি।’

এদিকে, মেলবোর্নের ব্যাটিং ধসের পরও সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (এসসিজি) পিচ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টের আগে এসসিজি উইকেটে পুরু ঘাসের স্তর দেখা গিয়েছে।

এই মাঠেই বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির শেষ টেস্ট মাত্র আড়াই দিনের মধ্যে শেষ হয়েছিল। যেখানে চার ইনিংস মিলিয়ে কোনও দলই ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি।

শেষ টেস্টের আগে এসসিজি উইকেট থেকে কতটা ঘাস কাটা হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সিডনিতে ভারসাম্যপূর্ণ পিচ প্রস্তুত করার জন্য কিউরেটর অ্যাডাম লুইসের উপর চাপ যে অনেকটাই, তা বলাই বাহুল্য।