আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে রেকর্ড কেপ ভার্দের। জোড়া নজির। প্রথমটি বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন করার পর। দ্বিতীয়টি বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জনসংখ্যার বিচারে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে অংশ নেয়। একই তালিকায় রয়েছে কুরাসাও এবং আইসল্যান্ড। তারওপর অভিষেকেই বাজিমাত। ইউরোপ সেরা স্পেনকে রুখে দিয়ে চমকে দিয়েছে গোটা ফুটবল বিশ্বকে। দেশটি খুব বেশি জনবহুল নয়। সেন্ট্রাল অ্যাটলান্তিক সাগরে পশ্চিম আফ্রিকান দেশের জনসংখ্যা মাত্র ৫,২৪,৮৭৭। বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন করার আগে পর্যন্ত ক'জন এই দ্বীপরাষ্ট্রের নাম শুনেছে সন্দেহ আছে। কিন্তু কেপ ভার্দের সঙ্গে জুড়ে আছে একজন বিশ্বতারকার নাম। তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। শুধু তিনি নন, সুইডেনের কিংবদন্তি হেনরিক লারসন এবং ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের নানির ধমনিতে বইছে কেপ ভার্দের উত্তরাধিকার।
সবাই জানে রোনাল্ডোর জন্ম পর্তুগালের মাদেইরাতে। অত্যন্ত গরিব পরিবারের জন্মেছিলেন। কিন্তু পরিবারের শিকড় কেপ ভার্দের একটি দ্বীপ সাও ভিনসেন্টে। জন্মসূত্রে কেপ ভার্দের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে সিআরসেভেনের। রোনাল্ডোর বাবার জোসে দিনেস আভেইরার ঠাকুমার জন্ম সাও ভিনসেন্টে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে কেপ ভার্দে ছাড়েন রোজা ইসাবেল। চলে যান মাদেইরাতে। সেখানে প্রথম কয়েকদিন এক ইংরেজি দম্পতির বাড়িতে কাজ করেন। তারপর মাদেইরাতেই বিয়ে করে সংসার পাতেন। জোসে আভেইরা ছিলেন রোনাল্ডোর প্রপিতামহ। তাঁদের সন্তান উমবার্ত আভেইরা বিয়ে করেন ফিলোমিনাকে। তিনি ছিলেন রোনাল্ডোর ঠাকুমা। তাঁদের ছয় সন্তানের একজন পর্তুগিজ তারকার বাবা। এইভাবে পারিবারিক সূত্রে কেপ ভার্দের সঙ্গে যুক্ত পর্তুগিজ তারকা।
পশ্চিম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ১৯৭৫ সালে পর্তুগালের থেকে স্বাধীনতা পায় কেপ ভার্দে। তাই তাঁদের সঙ্গে পর্তুগালের একটি সম্পর্ক আছে। ছোট্ট এই দেশের প্লেয়ারদের অনেকেরই জন্ম রোনাল্ডোর দেশে। মাত্র ৫ লক্ষ জনসংখ্যার দেশের বিশ্বমঞ্চে আবির্ভাব ২০১৩ সালে। প্রথমবার খেলে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসে। দলে মূলত প্রবাসী ফুটাররাই ছিল। তবে তার অনেক আগে থেকেই বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা চালায়। প্রথমবার ২০০২ জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে যোগ্যতাঅর্জনের চেষ্টা করে। কিন্তু লাগাতার ব্যর্থতা। অবশেষে এবার এসেছে সাফল্য। বাছাই পর্বে দশ ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে জয়। পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশিবার আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করা ক্যামেরুনকে।তারপর অভিষেকে চমক। স্পেনকে হারাতে না পারলেও, পরিসংখ্যান এবং পরিস্থিতির নিরিখে কেপ ভার্দেকে অনায়াসেই 'জায়ান্টকিলার' বলা যায়। ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে ড্র নৈতিক জয় তো অবশ্যই। ভোজিন্হারা কি পারবে এবারের বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া হতে?















