দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়েছে, আর একই সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই দুই বিপরীত প্রবণতা ভারতের বর্ষা মৌসুমে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
2
12
বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
3
12
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো ৩.৪ অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে নতুন রেকর্ড গড়ছে। এই অঞ্চলটি এল নিনোর শক্তি নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সমুদ্রের জল যত বেশি উষ্ণ হয়, এল নিনোর প্রভাব ততই বাড়ে এবং তা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন ঘটায়।
4
12
ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনোর প্রভাব সাধারণত বর্ষার উপর পড়ে। অনেক সময় এটি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যায়।
5
12
যদিও এল নিনো থাকলেই খরা হবে—এমন নয়, তবে অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর বছরে ভারতের বর্ষা দুর্বল হওয়ার একাধিক নজির রয়েছে।
6
12
এদিকে, মৌসুমি বায়ু ইতিমধ্যেই দেশের বিস্তীর্ণ অংশে পৌঁছালেও তার অগ্রগতি আগের তুলনায় ধীর হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনে কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়লেও জুলাই ও আগস্টে এল নিনোর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
7
12
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হল দেশের বৃষ্টিনির্ভর কৃষি অঞ্চলগুলি। ভারতের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি কৃষিজমি এখনও সেচের পরিবর্তে বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল।
8
12
যদি মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে ধান, ডাল, ভুট্টা, তুলা ও অন্যান্য খরিফ ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব খাদ্যশস্যের উৎপাদন, বাজারদর এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
9
12
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এল নিনোর পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোলের অবস্থাও বর্ষার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। যদি ইতিবাচক আইওডি সক্রিয় হয়, তাহলে এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্রুত উষ্ণতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
10
12
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি ইতিমধ্যেই বর্ষার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের ঘাটতির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে। কৃষকদেরও আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী চাষের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
11
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, জল সংরক্ষণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি এবং বিকল্প ফসলের পরিকল্পনা আগামী কয়েক মাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
12
12
আগামী কয়েক সপ্তাহে এল নিনোর তীব্রতা এবং মৌসুমি বায়ুর গতিপ্রকৃতি ভারতের বর্ষার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ধারণ করবে। ফলে আবহাওয়া দফতরের প্রতিটি আপডেট এখন কৃষক, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।