আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর তিনদিন পর শুরু আইপিএল। তার আগে এমএস ধোনিকে নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। আসন্ন কোটিপতি লিগে ক্যাপ্টেন কুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলবেন ধোনি। কিন্তু এতে সম্মতি নেই প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার। দাবি, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলা উচিত নয় ধোনির। সেটা হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে, তার আগেই বুট জোড়া তুলে রাখা উচিত ধোনির। প্রত্যেক বছরের মতো এবারও একই প্রশ্ন উঠছে, এটাই কি ধোনির শেষ আইপিএল? ঋতুরাজ গায়কোয়াড়কে তৈরি করা হচ্ছে। একাধিক তরুণ ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়েছে। রাজস্থান রয়্যালস থেকে নেওয়া হয়েছে সঞ্জু স্যামসনকেও।
আশা করা যাচ্ছে, এটাই ধোনির শেষ মরশুম হতে চলেছে। নিজের ফিটনেস যে কমছে সেটা স্বীকার করে নেন ধোনি নিজেই। বয়স, ফিটনেস এবং হাঁটুর সমস্যার জন্য লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করেন ধোনি। উইকেটের পেছনেও আর আগের মতো তৎপর নেয় মাহি। কিন্তু দল পরিচালনায় ডাগআউট থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। কিন্তু এর প্রবল বিরোধিতা করেন আকাশ চোপড়া। দাবি, ডাগআউট থেকে দল চালনা করা যায় না। এটা শুধু ফুটবল কোচদের পক্ষেই সম্ভব। তিনি মনে করেন, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলার থেকে বুট জোড়া তুলে রাখা উচিত ধোনির।
আকাশ চোপড়া বলেন, 'ডাগআউট থেকে দল পরিচালনা করা যায় না। এটা ফুটবল নয়। ক্রিকেটে মাঠে একজনের থাকা প্রয়োজন। এমএস ধোনির প্রধান অস্ত্র গেম রিডিং। বাকিদের থেকে যা ও ভাল করে। আমার মনে হয়, এটাই ওর শেষ মরশুম। এবার ওদের উত্তরাধিকারী আছে। চেন্নাইয়ের পরবর্তী উইকেটকিপার সঞ্জু স্যামসন। এই আইপিএলেও যেকোনো সময় সেটা হতে পারে। কিন্তু ধোনির ফিটনেস এবং হাঁটুর সমস্যার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে ও ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হতে পারবে না। যদি ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলতে হয়, সেক্ষেত্রে গ্লাভস তুলে রাখা উচিত।'
আসন্ন আইপিএলের আগে আরও একটি বড় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন আকাশ চোপড়া। এতদিন বেসরকারি অধিনায়ক ছিলেন ধোনি। ভারতের প্রাক্তনী মনে করেন, এবার আর আনঅফিসিয়াল অধিনায়ক থাকবেন না ক্যাপ্টেন কুল। গতবছর জঘন্য পারফরম্যান্স ছিল চেন্নাইয়ের। কিন্তু তাসত্ত্বেও একাধিক তরুণদের নিয়েছে দক্ষিণের দল। 'ড্যাডিজ আর্মি' তকমা ঝেড়ে ফেলতে চাইছে সিএসকে।
আকাশ চোপড়া বলেন, 'একটা কথা আছে, যদি তোমার বাচ্চাকে হাঁটাতে চাও, তাঁদের হাত ধরে শেখাতে হয়। যদি ওদের দৌড়তে দেখতে চাও, তাহলে হাত ছেড়ে দিতে হবে। তুমি যদি সবসময় ধরে রাখো, ওরা দৌড়তে শিখবে না। ধোনির পরিস্থিতির সঙ্গে মিল আছে। কাউকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করা হলে, ধোনিকে ব্যাকসিট নিতে হবে। আমার মনে হয়, সেটা ও ইতিমধ্যেই করেছে। এবারের নিলাম সেটারই প্রমাণ। ওর ওপর সম্পূর্ণ ছেড়ে দেওয়া হলে, কখনই এই দল বানাতে চাইত না। একসঙ্গে এতজন তরুণকে নিত? এটা ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের দল। ও হয়ত কিছু পরামর্শ দেবে, কিন্তু তার বাইরে কিছু করবে না। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিরাট কোহলির ক্ষেত্রেও একই কাজ করেছিল। ওদের তৈরি হওয়ার সুযোগ করে দেয়। তবে সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে রাখে।' আসন্ন আইপিএলে ধোনির ভূমিকা জানার জন্য আর কয়েকদিনের অপেক্ষা। ৩০ মার্চ রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে যাত্রা শুরু করবে চেন্নাই সুপার কিংস।
