শান্তি চুক্তির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত মেটাতে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা হতেই সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে এক ধাক্কায় বাড়ল সোনার দাম। প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে হলুদ ধাতুর মূল্য। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই কমেছে। পাশাপাশি দুর্বল হয়েছে মার্কিন ডলারের মূল্য। একইসঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কাও হ্রাস পেয়েছে।
2
8
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্সে ৪,৩০৪.১১ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। যা গত ৯ জুনের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন সোনার দামও ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪,৩২৫.২০ ডলার হয়েছে।
3
8
রবিবার মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা জানান যে, যুদ্ধ সমাপ্তি, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং 'হরমুজ প্রণালী' ফের খুলে দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।
4
8
এর ফলে বাজারে যে বড় পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করা গেছে-
১। মার্কিন ডলারের সূচক গত ১০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়েছে। ডলার দুর্বল হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলার-মূল্যের সোনা কেনা সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।
২। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে।
5
8
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাওয়ার সম্ভাবনায় তেলের দাম কমছে ও ডলার দুর্বল হচ্ছে। এটি মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে কমাতে সাহায্য করছে। এই পরিস্থিতির কারণেই পরিবর্তিত সোনার দাম। তবে এই ধারা বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে শান্তি চুক্তিটি কতটা স্থায়ী হয় তার ওপর।"
6
8
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানের সাথে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সোনার দাম প্রায় ২০% হ্রাস পেয়েছিল। ওই সংকটের সময় হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছিল, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘদিন চড়া রাখবে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
7
8
সাধারণত সোনাকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ মনে করা হলেও, সুদের হার বেশি থাকলে সোনার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা থেকে কোনও বাড়তি সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমে গেলেও দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার চাঙ্গা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
8
8
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও সোমবার বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে:
১। রুপো- ৭০.০৭ ডলার প্রতি আউন্সে।
২। প্ল্যাটিনাম- ১৭৭১.২৭ ডলার প্রতি আউন্স।
৩। প্যালাডিয়াম-১৩২৫.৭৬ ডলার প্রতি আউন্স।