আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপে জার্মানির গোল উৎসব। তার মধ্যেও ইতিহাস গড়ল কুরাসাও। 

বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেকেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেল কুরাসাও। জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলটি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিরুদ্ধে সাহসী লড়াই উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত জার্মানদের গোল উৎসব থামাতে পারেনি। খেলার শেষে স্কোরলাইন বলছে জার্মানি কুরাসাওকে নিয়ে একপ্রকার ছেলেখেলাই করেছে। জার্মানি আধিপত্য চালিয়ে সাত গোল দিল। আর কুরাসাও এক গোল। জার্মানি-কুরাসাও ম্যাচ ফিরিয়ে আনল ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের স্মৃতি। জার্মানির কাছে সাত গোল হজম করতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। খেলার ফলাফলও ছিল ঠিক এদিনের মতোই। জার্মানি ৭ ব্রাজিল ১। 

তবে অভিষেকেই কুরাসাও কিন্তু নজর কেড়ে নিয়েছে। ১ লক্ষ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার দেশ বিশ্বকাপ খেলছে।  সেই দেশ আবার জার্মানির চোখে চোখ রেখে গোলও করছে। কিন্তু জার্মানি ধারে ও ভারে অনেক এগিয়ে। তাই দিনের শেষে স্কোরলাইন তাদের হয়েই কথা বলছে। 

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে জার্মানি। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স মেচার গোলে এগিয়ে যায় ইউরোপের জায়ান্টরা। 

তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কুরাসাও। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যায় তারা। ম্যাচের ২১ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া লিভানো কোমেনেনসিয়ার বাঁ পায়ের শট জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় কুরাসাও। গোলের পর উদযাপনও রীতিমতো নজর কেড়ে নেয়। 

সমতা ফেরানোর আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি কুরাসাওয়ের। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে জার্মানিকে আবারও এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। তিনি বিনা বাধায় হেডে গোল করে যান।  এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মেচাকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় জার্মানি। পেনাল্টি স্পট থেকে কাই হাভার্টজ ৩-১ করেন।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে জার্মানি। ৪৮ মিনিটে কিমিখের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলের চতুর্থ গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। এরপর ৬৮ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-১। ৭৮ মিনিটে উনদাভ ৬-১ করে যান।  ৭-১ করেন হাভার্টজ।  

ম্যাচের আগে কুরাসাও কোচ ডিক অ্যাডভোকাট বলেছিলেন, তাঁর দল জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে। যদিও স্কোরলাইন সেই সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। তবুও বিশ্বকাপ অভিষেকে জার্মানির বিরুদ্ধে গোল করে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লেখে কুরাসাও। এটাই বা কম কী! 

এ ম্যাচ আরও একটি রেকর্ডও হয়। কুরাসাওয়ের ৭৮ বছর বয়সী প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট এবং জার্মানির ৩৮ বছর বয়সী কোচ নাগেলসমানের মধ্যে বয়সের পার্থক্য ৪০ বছর। বিশ্বকাপ ইতিহাসে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রধান কোচের মধ্যে বয়সের এই ব্যবধান সর্বোচ্চ।

সাত গোল হজম করলেও কুরাসাওয়ের জন্য দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বহুদিন। জাতীয় সঙ্গীতের সময়ে খেলোয়াড়দের চোখেমুখে যে আবেগ ধরা পড়েছিল, বিশ্বকাপের প্রথম গোলের পর তা রূপ নেয় এক অবিশ্বাস্য উদযাপনে। দিনের শেষে স্কোরলাইন বলে দিচ্ছে জার্মানি একপ্রকার স্টিমরোলার চালিয়ে গিয়েছে দুর্বল প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে। পরের ম্যাচগুলোয় কুরাসাও কী করে, সেটাই দেখার।