আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাঁকজমকভাবে পালিত হল মোহনবাগান দিবস। মঙ্গলবার সন্ধের নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে যেন চাঁদের হাট। সকালে মোহনবাগান লেনে অমর একাদশের প্রথম মূর্তিতে মাল্যদান করে মোহনবাগান দিবসের সূচনা। তারপর টর্চ ব়্যালি। ছিলেন সভাপতি দেবাশিস দত্ত। ব়্যালি শেষ হয় ক্লাবে। মোহনবাগানে শুরুতেই পতাকা উত্তোলন। উপস্থিত ছিলেন সভাপতি দেবাশিস দত্ত, সহ সভাপতি কুণাল ঘোষ এবং সচিব সৃঞ্জয় বসু। তারপর কেক কাটা, প্রাক্তনদের ম্যাচ। পেসিডেন্ট একাদশ এবং সেক্রেটারি একাদশের ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব সারেন দেবাশিস দত্ত এবং সৃঞ্জয় বসু। মেরিনার্স ফ্যান ক্লাবের গান প্রকাশিত হয়। ক্লাবতাঁবুতে অমর একাদশ ফুটবল যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। জ্বালানো হয় মশাল। তুমুল বৃষ্টির মধ্যে নেভেনি আগুনের শিখা।
জনপ্রিয় জুটি সৌরেন্দ্র-সৌম্যজিতের গান দিয়ে বিকেলের অনুষ্ঠান শুরু। চলে গানের তালে তালে ফুটবল জাগলিং। মোহনবাগান দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস মন্ত্রী। এছাড়াও ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি, বাবুল সুপ্রিয়, মনোজ তিওয়ারি প্রমুখ। অমর একাদশের পরিবারের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ব্যাজ এবং উত্তরীয় দিয়ে অমর একাদশের পরিবারের প্রতিনিধিদের সংবর্ধিত করা হয়। মাস দেড়েক আগেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোহনবাগানের দুই শীর্ষকর্তার মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। কিন্তু মোহনবাগান দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে মেলে ভ্রাতৃত্বের ছোঁয়া। দুই কর্তার একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার। সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, 'মোহনবাগান ক্লাবের আসল চালিকাশক্তি সমর্থকরা। আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হই যখন মোহনবাগান সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। সৃঞ্জয় আমার হাত না ছাড়লে আমি কোনওদিন ছাড়ব না। শুনেছি আমাদের তুলনা টুটু দা নিজের এবং অঞ্জন দার জুটির সঙ্গে করেছে। আমি এবং সৃঞ্জয় টুটু দা ও অঞ্জন দার নখের যোগ্য হতে পারলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করব।' নিজের বাবার হাতে 'মোহনবাগান রত্ন' তুলে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আপ্লুত বাগান সচিব। সৃঞ্জয় বসু বলেন, 'এই দিনটা সব মোহনবাগানিদের কাছে আবেগের। আমার কাছে আরও আবেগের। কারণ সবচেয়ে বড় পুরস্কার টুটু বসুকে দিতে পারব। আমার সৌভাগ্য যার হাত ধরে মাঠে এসেছি, তাঁকে মোহনবাগান রত্ন দিতে পারছি। অঞ্জন মিত্রকে মনে পড়ছে। কারণ ওনার মস্তিষ্কপ্রসূত এই দিনটা। সমর্থকদের প্রার্থনা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।'

মোহনবাগান দিবস উপলক্ষে একগুচ্ছ পুরস্কার দেওয়া হয়। ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল এএফসি এশিয়া কাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাঁদের সংবর্ধিত করা হয়। আসেননি সঙ্গীতা বাসফোর, অঞ্জু তামাং এবং কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী। রিম্পা হালদারকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ম্যারিনার্স বেস ক্যাম্পকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে আঁকা ২৫,৫০০ বর্গ ফুটের টিফোর জন্য পুরস্কৃত করা হয় এই ফ্যানস ক্লাবকে। টিফোর রেপ্লিকা মোহনবাগান সভাপতি এবং সচিবের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এমডিএক্স, মেরিনার্স দ্য এক্সট্রিমের মিউজিক ভিডিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। জীবনকৃতি সম্মান পান রাজু মুখার্জি। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনেন। রাজু মুখার্জি বলেন, 'মোহনবাগান আমার কাছে আবেগ। ১৭ বছর বয়সে মোহনবাগানে আসি। তারপর থেকে রক্তে জমে গিয়েছে। প্রত্যেককে ধন্যবাদ। বিশেষ করে যারা আমাকে এই পুরস্কার দেওয়ার যোগ্য মনে করেছে। মোহনবাগান আমাকে মানুষ করেছে। মোহনবাগানে আমি অনেক কিংবদন্তিদের দেখেছি। জ্যোতিষ মিত্র আমার আইডল ছিলেন। তবে আমি দুটো বড় বড় শূন্য করে মোহনবাগানে জীবন শুরু করেছিলাম।' অরুণলাল সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পান রণজোৎ সিং খায়রা। সুভাষ ভৌমিক নামাঙ্কিত পুরস্কার পান জেমি ম্যাকলারেন।
শিবদাস ভাদুড়ী নামাঙ্কিত সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পান আপুঁইয়া। তবে ম্যাকলারেন এবং আপুঁইয়া এদিন হাজির ছিলেন না। প্রথমজন এখনও কলকাতায় আসেননি। দ্বিতীয়জন এলেও, একদিন পর মহমেডানের বিরুদ্ধে ডুরান্ড অভিযান শুরু মোহনবাগানের। তাই মোহনবাগান দিবসে অনুপস্থিত ছিলেন। সেরা উঠতি ফুটবলার হন দীপেন্দু বিশ্বাস। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন টলিউডের প্রখ্যাত তারকা প্রসেনজিৎ। দীপেন্দু বলেন, 'শুভ মোহনবাগান দিবস। ধন্যবাদ যারা আমাকে যোগ্য মনে করেছে এই পুরস্কারের জন্য। আশা করছি আগামীদিন আরও ভাল হবে।' উমাকান্ত পালোধি নামাঙ্কিত সেরা সমর্থকের পুরস্কার পান রিপন মণ্ডল। প্রতুল চক্রবর্তী নামাঙ্কিত সেরা রেফারির পুরস্কার দেওয়া হয় মিলন দত্তকে। অঞ্জন মিত্র সেরা প্রশাসকের পুরস্কার পান কমল কুমার মৈত্র। মতি নন্দি নামাঙ্কিত সেরা ক্রীড়া সাংবাদিকের পুরস্কার দেওয়া হয় দুই প্রয়াত সাংবাদিক অরুণ সেনগুপ্ত এবং মানস চক্রবর্তীকে। প্রণব ব্যানার্জি নামাঙ্কিত আওয়ার্ড সেরা অ্যাথলিটের পুরস্কার পান অর্চিতা ব্যানার্জি। কেশব দত্ত সেরা হকি প্লেয়ায় হন অর্জুন শর্মা।
আরও পড়ুন: মোহনবাগানের ক্যান্টিন নিজের নামে করার অনুরোধ, লাইফ মেম্বারশিপের স্লট বুক
১৯ জনকে নতুন লাইফ মেম্বার করা হয়েছে। এদিন তাঁদেরও সংবর্ধিত করা হয়। এই তালিকায় ছিলেন শ্রেয়া পাণ্ডে, বোধিসত্ত্ব ব্যানার্জি, সোহনলাল ঘোষ, সৌমেন রায়, সামিউল্লাহ খান, অমিতাভ চৌধুরী, সুরজিৎ ঘোষ, আদিত্য মুখার্জি, মনমোহন আগরওয়াল, অমিত কুমার শ্যাম, সুক্রম কুণ্ডু, প্রিয়াঙ্কা সরকার, রাজেশ্বরী রায়, অর্ণব গাঙ্গুলি, সৌমজিৎ বসু, রাজু নস্কর, প্রবীর মহাপাত্র, অরিজিৎ ব্যানার্জি এবং জাকির হোসেন।
