আজকের দ্রুতগতির জীবনে ক্রেডিট কার্ড একটি অপরিহার্য আর্থিক উপকরণ। যদিও কেউ কেউ এগুলো দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার করেন, অন্যরা বিলম্বে পেমেন্ট, উচ্চ সুদ এবং জরিমানার কারণে ঋণের ফাঁদে পড়েন। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, যদি কোনও ক্রেডিট কার্ডধারী বকেয়া বিল পরিশোধ করার আগেই মারা যান, তাহলে কী হবে? পরিবারের সদস্যরা কি আইনত সেই বকেয়া পরিশোধ করতে বাধ্য?
2
7
একটি ক্রেডিট কার্ডকে জামানতবিহীন ঋণ হিসেবে গণ্য করা হয়, অর্থাৎ এর বিপরীতে সম্পত্তি, সোনা বা জমির মতো কোনও জামানত রাখা হয় না। ব্যাঙ্কগুলো আয় এবং ক্রেডিট স্কোরের ভিত্তিতে কার্ড ইস্যু করে। আরবিআই-এর নির্দেশিকা অনুসারে, এই ধরনের ঋণের দায় শুধুমাত্র কার্ডধারীর ওপরই বর্তায়। তাই, যদি কার্ডধারী মারা যান, তবে ব্যাঙ্ক পরিবারের সদস্যদের বা আইনি উত্তরাধিকারীদের তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করতে পারে না।
3
7
যদিও পরিবার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নয়, তবে বকেয়া অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুকুব হয় না। ব্যাঙ্কগুলো মৃত ব্যক্তির সম্পদ, যেমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট, শেয়ার ও বিনিয়োগ, সোনা বা সম্পত্তি থেকে আইনত বকেয়া আদায় করতে পারে। উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পদ বণ্টনের আগে ব্যাংঙ্ক এই সম্পদগুলোর ওপর প্রথম আইনি দাবিদার হয়।
4
7
যদি আইনি উত্তরাধিকারীরা উত্তরাধিকারসূত্রে কোনও সম্পদ পান, তবে ব্যাঙ্ক শুধুমাত্র উত্তরাধিকারের মূল্যের সমপরিমাণ পর্যন্ত বকেয়া আদায় করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও ব্যক্তি ৫ লক্ষ টাকার সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে পান এবং ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ৭ লক্ষ টাকা হয়, তবে ব্যাঙ্ক শুধুমাত্র ৫ লক্ষ টাকা আদায় করতে পারবে। বাকি ২ লক্ষ টাকা মুকুব করতে হবে। যদি আদায়ের জন্য কোনও সম্পদ না থাকে, তবে ব্যাঙ্কের কোনও আইনি প্রতিকার থাকে না। এই ধরনের ক্ষেত্রে, বকেয়া অর্থকে খারাপ ঋণ বা অনাদায়ী সম্পদ (NPA) হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়।
5
7
যৌথ কার্ডধারী এবং জামিনদারের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন হয়: যৌথ ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে, জীবিত কার্ডধারী বকেয়া পরিশোধের জন্য দায়ী থাকেন। যদি কোনও জামিনদার থাকেন, তবে ব্যাঙ্ক তাঁর কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারে। অবিলম্বে ব্যাঙ্ককে জানানো, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মৃত্যু সনদ জমা দেওয়া এবং আরও সুদ বা চার্জ এড়াতে কার্ডটি ব্লক বা ফ্রিজ করার অনুরোধ করা গুরুত্বপূর্ণ।
6
7
সময়মতো পদক্ষেপ করলে অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়ানো যায়। যদি রিকভারি এজেন্টরা হুমকি দেয় বা ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে অর্থ দাবি করে, তবে পরিবারের তরফে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ করা যেতে পারে। যেমন, থানায় অভিযোগ দায়ের করা এবং আরবিআই ওমবাডসম্যানের কাছে অভিযোগ জানানো।
7
7
কিছু প্রিমিয়াম ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে ক্রেডিট লাইফ ইন্স্যুরেন্স থাকে। যদি কার্ডধারী কোনও দুর্ঘটনার কারণে মারা যান, তবে বিমা কোম্পানি পলিসির সীমা সাপেক্ষে বকেয়া পরিশোধ করতে পারে। পরিবারগুলোর উচিত এমন কোনও বিমা সুরক্ষা আছে কিনা তা যাচাই করে দেখা।