আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুভমন গিলের উপর অল্প বয়সেই একাধিক ফরম্যাটে নেতৃত্বের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। 

ভারতের হেডকোচ গৌতম গম্ভীর ও ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে এই মর্মে একহাত নিলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন তারকা মহম্মদ কাইফ। 
শুভমন গিলের নেতৃত্বে ভারত ঘরের মাঠে ওয়ানডে-তে হেরেছে ২-১-এ। তার পর থেকেই প্রাক্তন ক্রিকেটাররা 'গেল গেল' রব তুলছেন। 

এই প্রেক্ষিতে কাইফ তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, ''শুভমন গিলকে সমর্থন করে যাওয়া সবথেকে বড় ভুল।'' 
কাইফের আরও সংযোজন, ''গিল তো এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি দলেই নেই। ওর উপরে অত্যাধিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। গিল যথেষ্ট ভাল খেলোয়াড়। কিন্তু সব ফরম্যাটের বোঝা বহন করার ক্ষমতা নেই এই মুহূর্তে। লিফটের যেমন ওজন বহন করার সীমাবদ্ধতা থাকে, শুভমন গিলেরও সেরকমই ক্ষমতা রয়েছে। এটা সম্ভবই নয়।'' 

এই ২৬ বছর বয়সেই শুভমন গিলের উপরে অতিরিক্ত চাপ। কাইফ বলছেন, ''ওকে বলা হয়েছে, তুমি টেস্ট দলের নেতৃত্ব নাও, তাহলে তুমি বিরাট কোহলির থেকেও বড় হতে পারবে। রেকর্ড ভাঙতে পারবে, সবক'টি ফরম্যাটেই খেলতে শুরু কর।'' 

কাইফ মনে করেন, শুভমন গিলের উপরে বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন যিনি, তাঁকেই এর দায় নিতে হবে। 

কাইফ বলেছেন, ''রোহিত শর্মাকে ক্যাপ্টেন করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হত। ওকে জিজ্ঞাসা করাই যেত অধিনায়কত্ব করার জন্য মানসিক ভাবে ও তরতাজা কিনা। বুদ্ধিমান ম্যানেজমেন্ট হলে রোহিতের উপরই ভরসা করত। ওকে সরিয়ে দেওয়া ভুল পদক্ষেপ। ওরা নতুন এক দল তৈরি করতে চেয়েছিল, গিলকে ক্যাপ্টেন করতে চেয়েছিল।'' 

এর আগে গিল ও গম্ভীরের পাশে দাঁড়ান ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকর। তিনি বলেছেন, ''সত্যি বলতে কী, আজকের ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বকাপই আসল ব্যাপার। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও নয়। যদিও শেষ তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বিজয়ীদের মনে রাখার চেষ্টা করে দেখুন, তাহলে সেগুলো মনে থাকবে না। কিন্তু ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে প্রতিবারের বিজয়ীর নাম বলা যাবে।'' 

মঞ্জরেকরের সংযোজন, ছোট সিরিজে পরাজয় নিয়ে কেঁপে যাওয়ার কিছু নেই। এই ধরনের হার উপকার করতে পারে। মঞ্জরেকর বলছেন, ''যদি ব্যর্থতা এবং খারাপ পারফরম্যান্স থেকে মুক্তি পেতে চায়, তাহলে পরবর্তী বিশ্বকাপের আগে এখনই এগুলোকে সিস্টেম থেকে বের করে দাওয়া উচিত। এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলি আগে থেকেই নির্ধারিত, তবে এগুলি বেশিরভাগই প্রস্তুতিমূলক খেলা এবং এগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলি আজকাল এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে কোনও ক্রিকেট ভক্তই দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের ফলাফল মনে রাখতে পারেন না।''