আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে সলমন আলি আঘার বিতর্কিত রানআউট নিয়ে ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া দিলেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার লিটন দাস।
তাঁর মতে, নিয়ম অনুযায়ী ওই রানআউট সম্পূর্ণ বৈধ ছিল। আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও কারণ নেই। শুক্রবার পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচের ৩৯তম ওভারে ঘটনাটি ঘটে।
বাংলাদেশ প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পাকিস্তানের হয়ে ভালো জুটি গড়ে তুলছিলেন সলমন আলি আঘা ও মহম্মদ রিজওয়ান। ওই ওভারের চতুর্থ বলে রিজওয়ান সোজা ব্যাটে ডিফেন্স করলে বলটি বোলারের দিকে আসে।
বল থামাতে নিজের ফলো-থ্রুতে এগিয়ে এসে পা দিয়ে সেটি আটকে দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। সেই সময় নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা আঘার সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে।
বলটি তাঁদের কাছেই থেমে গেলে এবং আঘা সাময়িকভাবে ক্রিজের বাইরে থাকায় তিনি বলটি তুলে মিরাজকে ফেরত দিতে ঝুঁকেছিলেন বলে মনে হয়।
কিন্তু ঠিক সেই সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান মিরাজ। তিনি বলটি তুলে আন্ডারআর্ম থ্রো করে নন-স্ট্রাইকার প্রান্তের স্টাম্পে আঘাত করেন। তখনও সলমন আঘা ক্রিজের বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এরপরই আউটের জোরালো আবেদন করেন মিরাজ। অন-ফিল্ড আম্পায়ার তানভীর আহমেদ সিদ্ধান্তটি তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠান। টিভি রিপ্লে দেখে তৃতীয় আম্পায়ার নিশ্চিত করেন যে বলটি তখনও খেলার মধ্যেই ছিল। আঘার ব্যাট ক্রিজের ভিতরে ছিল না। ফলে তাঁকে রানআউট ঘোষণা করা হয়।
৬২ বলে ৬৪ রান করা আঘা এই সিদ্ধান্তে স্পষ্টতই অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং মিরাজের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে লিটন দাসও সেই আলোচনায় যোগ দেন। পরে মহম্মদ রিজওয়ান এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ম্যাচ শেষে লিটন বলেন, ‘প্রথমত, আমরা এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসিনি। এটা একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।’
তাঁর বক্তব্য, নিয়মের মধ্যে থেকেই ওই আউট হয়েছে। তাই খেলোয়াড়দের দৃষ্টিতে এতে স্পোর্টসম্যানশিপ লঙ্ঘনের প্রশ্ন ওঠে না।
লিটন বলেন, ‘যেহেতু নিয়ম অনুযায়ী আউট হয়েছে, তাই আমার কাছে মনে হয় না যে স্পোর্টসম্যানশিপের কোনও ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যেকের নিজের মতামত থাকতে পারে। তবে আমাদের কাছে আউট মানেই আউট।’
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রামিজ রাজা এই ঘটনাকে ঘিরে স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে লিটন দাস সেই মতের সঙ্গে একমত নন।
