আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানে এক ১৯ বছর বয়সি চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগীরসহ আরও দুই ব্যক্তিকে জনসমক্ষে ফাঁসি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির তরফে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।

কর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা সরকারের বিরোধী দমনের অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন উদীয়মান কুস্তিগীর সালেহ মহম্মদি।

তাঁর সঙ্গে সঈদ দাভোদি এবং মেহেদি ঘাসেমিকেও বৃহস্পতিবার ফাঁসি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারির বিক্ষোভ চলাকালীন দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার সঙ্গে তাঁরা জড়িত ছিলেন।

ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শহরে জনসমক্ষে এই ফাঁসি দেওয়া হয় তিনজনকে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া দেশজুড়ে বিক্ষোভের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া প্রতিবাদীদের মধ্যে এই তিন ব্যক্তিই প্রথম, যাঁদের ফাঁসি দিল ইরান।

নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা ভবিষ্যতে আরও ফাঁসির ঘটনা ঘটতে পারে। সংগঠনের পরিচালক মাহমুদ এমিরি মোঘাদ্দম বলেন, ‘যাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে রায় দেওয়া হয়েছে। নির্যাতন ও জোর করে আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে মনে করছি। বিরোধী দমনে ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘প্রতিবাদীদের ব্যাপক হারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে আগামী দিনে। আন্তর্জাতিক মহলকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, মহাম্মদির কাছ থেকে নির্যাতনের মাধ্যমে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় যা ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ফাঁসির সাজা দেওয়া তিনজনকে ‘আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ’ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ, জোর করে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

ইরানি কমব্যাট অ্যাথলিট ও মানবাধিকার কর্মী নিমা ফার এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি সমাজে আতঙ্ক ছড়ানো এবং জনমত দমনের জন্য ক্রীড়াবিদদের টার্গেট করার একটি ধারাবাহিক কৌশলের অংশ।’

ফার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির কাছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ক্রীড়াবিদদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরানকে যে কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত।’

চলতি বছরের শুরুতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

আমিরি-মোঘাদ্দাম আরও বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান বর্তমানে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে। তারা জানে, তাদের অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় হুমকি সেই ইরানের জনগণ, যারা মৌলিক পরিবর্তন দাবি করছে।’