আজকাল ওয়েবডেস্ক: মোহনবাগান ক্লাবে আবেগঘন পরিবেশ। সবুজ-মেরুনের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোসকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ক্লাবতাঁবুতে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও। 

ক্লাবে পৌঁছে টুটু বোসকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে প্রয়াত মহাজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন তিনি। পরে শুভেন্দু বলেন, ''মোহনবাগানের সঙ্গে বাঙালিদের আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। টুটু বাবু মানেই মোহনবাগান এবং মোহনবাগান মানেই টুটু বাবু। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এবং নিজে আমি ক্লাবে এসেছিলাম তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে। আমার সঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ছিলেন, ক্লাবকর্তারাও ছিলেন। মোহনবাগান সমর্থক, টুটু বাবুর শুভাকাঙ্খীদের সমবেদনা জানাই। সমর্থকদের কাছে আবেদন, টুটু বাবু যেভাবে দলটাকে আগলে রেখেছিলেন, আপনারাও আগলে রাখুন। তাঁর চলে যাওয়া অনেক বড় ক্ষতি।''

বুধবার সকালে যখন টুটু বোসের নশ্বর দেহ মোহনবাগান ক্লাবে পৌঁছল, তখন যেন সবুজ-মেরুন তাঁবুর প্রতিটা কোণে এক অদ্ভুত নিস্তবদ্ধতা ছড়িয়ে পড়ল। নিঃশব্দেরও ভাষা আছে। তা পড়লেই বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতদিন যে মন্দিরের তিনি যজ্ঞের পুরোহিত ছিলেন, যা ছিল তাঁর প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ সেই মানুষটাই আজ ক্লাবতাঁবুতে পা রাখলেন শেষবারের মতো। 

ফুলে ঢাকা শরীর নিশ্চুপ, অথচ চারপাশে যেন অনুরণিত হচ্ছে প্রাণখোলা হাসি। কোথাও যেন অস্ফুটে বেজে চলেছে রবিঠাকুরের সেই গান, 'যেখান দিয়ে হেসে গেছে,  হাসি তার রেখে গেছে'।  তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে ক্লাব লন পূর্ণ। তাঁবুর ভিতরে ভিড়। দূরের ওই ক্যান্টিনের সামনে জটলা। 

কিন্তু শেষ কি সত্যিই হয়? মানুষ চলে যান, থেকে যায় তাঁর ছোঁয়া, তাঁর তৈরি করা সম্পর্ক, তাঁর স্বপ্ন। 

মোহনবাগানের অন্দরমহলে টুটু বোস শুধু একজন প্রশাসক ছিলেন না, ছিলেন আবেগের অন্য নাম। তাই তাঁর প্রয়াণে শোক নেমেছে ঠিকই, কিন্তু সেই শোকের মধ্যেও ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, অসংখ্য গল্প। সবুজ-মেরুনের ইতিহাসে তাঁর নাম লেখা থাকবে এক অনিবার্য অধ্যায় হিসেবেই।