স্ট্রেস মা হওয়ার পথে বাধা নয়, মা হওয়ার সঠিক বয়স কী? মাতৃত্ব নিয়ে ৬ ভুল ধারণা ভাঙলেন বিশেষজ্ঞরা
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৩ মে ২০২৬ ১৪ : ২৯
শেয়ার করুন
1
11
২৮ পেরিয়ে গেলেই মেয়েদের বলতে শোনা যায় বিয়ে কর, আর কবে বাচ্চা হবে? আজকের দিনে মেয়েরা যখন স্বাবলম্বী হতে চেষ্টা করছে সেই সময় বিয়ে আর বাচ্চা নেওয়ার জন্য পরিবার আত্মীয়ের এই চাপ, "দেরি হয়ে যাচ্ছে", এই কথা অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরি করে৷
2
11
কিন্তু মা হওয়ার কি সত্যিই কোনও নির্দিষ্ট বয়স আছে? বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি প্রচলিত ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। কী কী জেনে নেওয়া যাক।
3
11
মিথ ১: “৩০-এর পর ফার্টিলিটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে”
সত্য: বয়সের সঙ্গে সঙ্গে প্রজননক্ষমতা কমে৷ এটি হঠাৎ কমে যায় না৷ ২০ থেকে ৩০ এই সময় প্রজননক্ষমতা সব থেকে বেশি থাকে৷ ৩৫-এর পর প্রজননক্ষমতা কিছুটা কমে, ৪০-এর পর দ্রুত হারে কমতে থাকে প্রজননক্ষমতা৷ তবে অনেক মহিলাই ৩৫-৪০ বছর বয়সেও সফলভাবে সন্তান-ধারণ করেন।
4
11
মিথ ২: “AMH টেস্টে কম মানে বন্ধ্যাত্ব”
সত্য: AMH (অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন) আসলে ‘ডিম্বাণু-ভাণ্ডারের’ একটি ছবি দেয়— কিন্তু এটি প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা পরিমাপ করে না। আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন এর তরফে ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মহিলাদের নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল। গবেষণায় জানানো হয়েছে, নিয়মিত পিরিয়ড হওয়া মহিলার ক্ষেত্রে, কম AMH থাকলেও এক বছরে গর্ভধারণের সম্ভাবনা স্বাভাবিক AMH-এর মহিলার মতোই।
5
11
মিথ ৩: “৩৫-এর পর প্রতিটি গর্ভাবস্থা হাই-রিস্ক”
সত্য: ৩৫-এর পর গর্ভধারণকে বলা হয় ‘অ্যাডভান্সড মেটারনাল এজ’, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সকলের ক্ষেত্রেই বিপদ। সুস্থ জীবনধারা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শে অধিকাংশ মহিলাই সফল ও নিরাপদ গর্ভধারণ করেন।
6
11
মিথ ৪: শুধু মেয়েদেরই বয়স সমস্যা।
সত্য: পুরুষদের প্রজননক্ষমতাও বয়সের সঙ্গে কমে। শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও জিনগত গুণমান হ্রাস পায়। ৪০-এর পর পুরুষদের শুক্রাণুজনিত সমস্যা বাড়তে শুরু করে। তাই বন্ধ্যাত্ব বা প্রজননে সমস্যার দায় শুধু মহিলার নয়।
7
11
মিথ ৫: “স্ট্রেস ফার্টিলিটি নষ্ট করে না”
সত্য: দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা ডিম্বস্ফোটনে বাধা দিতে পারে। ধ্যান, যোগব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম— এসবই গর্ভধারণে সহায়ক।
8
11
মিথ ৬: “এগ ফ্রিজিং মানে গ্যারান্টি”
সত্য: এগ ফ্রিজিং একটি বিকল্প মাত্র৷ এটি মা হওয়া সুনিশ্চিত করে না৷ অল্প বয়সে (৩০-৩২) ফ্রিজ করলে সফলতার হার ভাল হয়। তবে পরিবার-পরিকল্পনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, AMH রিপোর্টে আতঙ্কিত হয়ে এগ ফ্রিজ করা উচিত নয়।
9
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদর্শ গর্ভধারণ-বয়স প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদা। শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক প্রস্তুতি, আর্থিক স্থিতি, সঙ্গীর সমর্থন— সব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
10
11
ফোলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট, সুষম আহার, ব্যায়াম, ধূমপান-মদ্যপান বর্জন, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ— এই অভ্যাসগুলোই গর্ভধারণে সাহায্য করে।
11
11
যদি এক বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হয়, তখন প্রজনন-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, মা হওয়ার সিদ্ধান্ত একান্ত ব্যক্তিগত। সমাজ, বা পরিবারের চাপ আপনার শরীরের ক্যালেন্ডার ঠিক করে দিতে পারে না।