ছোট সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এখনও ভরসার নাম পোস্ট অফিসের বিভিন্ন স্কিম। তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হল কিষাণ বিকাশ পত্র। নিরাপদ বিনিয়োগ, নির্দিষ্ট রিটার্ন এবং সরকারি গ্যারান্টির কারণে বহু মানুষ এই স্কিমে টাকা রাখেন।
2
10
কেন্দ্র সরকার এপ্রিল-জুন ২০২৬ ত্রৈমাসিকের জন্য কেভিপি-র সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। বর্তমানে এই স্কিমে এমন সুদ মিলছে, যাতে বিনিয়োগকারীর টাকা ১১৫ মাসে অর্থাৎ প্রায় ৯ বছর ৭ মাসে দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।
3
10
বর্তমানে কিষাণ বিকাশ পত্রে বার্ষিক ৭.৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। এই সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে যোগ হয়। সেই কারণেই দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীরা ভালো রিটার্ন পান। সরকার প্রতি তিন মাস অন্তর ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার পর্যালোচনা করলেও এবারের ত্রৈমাসিকে এখানে সুদে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
4
10
এটি মূলত এমন একটি সঞ্চয় প্রকল্প, যেখানে নির্দিষ্ট সময় পরে জমা অর্থ দ্বিগুণ হয়ে যায়। আগে এই সময়সীমা অনেক বেশি ছিল, কিন্তু সুদের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে তা কমে ১১৫ মাসে এসেছে। অর্থাৎ এখন যদি কেউ ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, মেয়াদ শেষে তা প্রায় ২ লক্ষ টাকায় পৌঁছবে।
5
10
এই স্কিমে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। এরপর ১০০ টাকার গুণিতকে যত খুশি বিনিয়োগ করা সম্ভব। সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনও সীমা নেই। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি একক বা যৌথ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এমনকি নাবালকের নামেও অভিভাবকের মাধ্যমে কেভিপি অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
6
10
কিষাণ বিকাশ পত্রের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, কারণ এটি কেন্দ্র সরকারের সমর্থিত প্রকল্প। বাজারের ওঠানামার কোনও প্রভাব এখানে পড়ে না।
7
10
ফলে যাঁরা ঝুঁকি নিতে চান না, তাঁদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের পরিকল্পনা যাঁরা করছেন, তাঁদের জন্য কেভিপি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।
8
10
তবে এই স্কিমে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এখানে আয়কর আইনের ৮০সি ধারায় কোনও কর ছাড় পাওয়া যায় না। এছাড়া প্রাপ্ত সুদের উপর করও প্রযোজ্য। তাই বিনিয়োগের আগে কর সংক্রান্ত বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন।
9
10
প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শর্তে মেয়াদপূর্তির আগেও টাকা তোলা যায়। সাধারণত আড়াই বছর বা ৩০ মাসের আগে এই স্কিম ভাঙানো যায় না। তবে আদালতের নির্দেশ, অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু বা বিশেষ পরিস্থিতিতে আগাম টাকা তোলার অনুমতি রয়েছে।
10
10
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে যেখানে শেয়ার বাজারে ওঠানামা বেশি, সেখানে নিশ্চিত রিটার্নের জন্য অনেকেই আবার পোস্ট অফিসের সঞ্চয় প্রকল্পগুলির দিকে ঝুঁকছেন। সেই তালিকায় কেভিপি এখন অন্যতম পছন্দের স্কিম হয়ে উঠেছে। নিরাপদ বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদে টাকা দ্বিগুণ করার সুযোগ থাকায় সাধারণ মধ্যবিত্তের কাছে এই প্রকল্পের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ছে।