আজকাল ওয়েবডেস্ক: হতে পারত আরও বেশি। হল ৭ উইকেটে ২২৬ রান। ইডেন গার্ডেন্সে এত রান কখনও তাড়া করেনি কেকেআর। অবশ্য এখনও পর্যন্ত এবারের আইপিএলে যা হয়নি, সেগুলোই ঘটছে। লক্ষ্মীবার কি রেকর্ড রান তাড়া করে জিততে পারবে কেকেআর? 

ফর্ম হারানো ক্রিকেটার, পথভ্রষ্ট দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে সামনে পেলে বদলে যায়। ছন্দ ফিরে পান তাঁরা। কলকাতা এখন প্রতিপক্ষের কাছে কামব্যাকের মঞ্চ হয়ে গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত কলকাতা বনাম সানরাইজার্স ম্যাচে সেটাই দেখা গেল। অভিষেক শর্মা সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই রানের মধ্যে নেই। আইপিএল শুরু হয়েছে। সেখানেও অভিষেক ছন্দে নেই। কিন্তু কলকাতার নির্বিষ বোলিংকে সামনে পেয়ে বাঁ হাতি ওপেনার বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন। তাঁর সঙ্গী ট্র্যাভিস হেডও মারমুখী ব্যাটিং করলেন। হায়দরাবাদের দুই ওপেনার যেভাবে একসময়ে ব্যাট করছিলেন, তাতে প্রচুর রান করার ঈঙ্গিত ছিল। কিন্তু মাঝে দ্রুত উইকেট হারানোর ফলে রানের গতি কমে যায় সানরাইজার্সের।  কিন্তু শেষমেশ সানরাইজার্স ২০ ওভারের শেষে করে ২২৬ রান। এর পিছনে কৃতিত্ব রয়েছে হেড-অভিষেকের মতোই ক্লাসেন-নীতীশ রেড্ডির।   

এদিন টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন কলকাতা অধিনায়ক অজিঙ্কে রাহানে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট করতে থাকা ট্র্যাভিস হেড কেকেআর বোলারদের উপরে চাপ তৈরি করেন। অজি তারকা যখন ৩৪ রানে ব্যাট করছেন, তখন তাঁর ক্যাচ ফেলেন রাহানে। ম্যাচ যত গড়ায় ক্যাচ আরও ফেলেন নাইটরা।

এর সঙ্গে যন্ত্রণা বাড়ান বরুণ চক্রবর্তী। পাওয়ারপ্লেতে বল হাতে একেবারেই কার্যকর হতে পারেননি তিনি। তাঁর এক ওভারে ২৫ রান নেন অভিষেক শর্মা। হায়দরাবাদের রান তোলার গতি তখন এক্সপ্রেস গতিতে দৌড়চ্ছে। 

তবে নাইটদের  স্বস্তি এনে দেন কার্তিক ত্যাগী। নিজের স্পেলের চতুর্থ বলেই তিনি আউট করেন হেডকে। ২১ বলে ৪৬ রান করে ফেরেন এই অজি  তারকা। ৮২ রানে প্রথম উইকেট হারায় হায়দরাবাদ। এরপর নাইট পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ধাক্কা দেন সানরাইজার্সের ইনিংসে। দিনের শেষে মুজারাবানির নামের পাশে লেখা চার-চারটি উইকেট। গতির হেরফের ঘটিয়ে তিনি হায়দরাবাদের ব্যাটারদের বিব্রত করেছেন। 

মুজারাবানির বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সানরাইজার্স ক্যাপ্টেন ঈশান কিশান। ৯ বলে ১৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১১১ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ে হায়দরাবাদের।

সেই ওভারেই ফের  ধাক্কা দেন মুজারাবানি।  ২১ বলে ৪৮ রান  করে ডাগ আউটে ফেরেন অভিষেক শর্মা। ১১২ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সানরাইজার্স। 

এরপর অনুকূল রায়ের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অনিকেত বর্মা। পরপর উইকেট পড়ায় হায়দরাবাদের ইনিংসে হঠাৎই ছন্দপতন ঘটে। ১১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় তারা।

তবে এই বিপর্যয়ের মধ্যেই ইনিংস সামলানোর কাজ শুরু করেন ক্লাসেন ও নীতীশ রেড্ডি। ১৪-তম ওভারেই ১৫০ রানের মাইলস্টোন অতিক্রম করে সানরাইজার্স। ১৮ ওভারে ২০০ রান করে ফেলে হায়দরাবাদ। নীতীশ রেড্ডি ৩৯ রানে আউট হন। ৮২ রানের পার্টনারশিপ গড়েন ক্লাসেন ও নীতীশ।

নীতীশ রেড্ডি ফেরার পরের বলেই সলিল অরোরা খাতা না খুলেই বোল্ড হলেন বৈভবের বলে।  কিন্তু হ্যাটট্রিক করতে পারেননি নাইটদের তারকা বোলার বৈভব। ক্লাসেন ৩৫ বলে ৫২ রান না করলে সানরাইজার্স রানের এভারেস্টে চড়তে পারত না। আগের দিনের মতো এদিনও কেকেআরের বোলিংয়ে দেখা গিয়েছে রক্তাল্পতা।