আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেষ বলে ছক্কা। ফিন অ্যালেনের দুরন্ত শতরানে টানা চার জয় কলকাতা নাইট রাইডার্সের। এলেন, দেখলেন, জয় করলেন নিউজিল্যান্ডের তারকা। পাওয়ার হিটিংয়ের আদর্শ উদাহরণ। হ্যাটট্রিক আগেই হয়েছিল। এবার আইপিএলে টানা চার জয়। শুক্রবার দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্লে অফের দৌড়ে টিকে থাকল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ১০ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সাত নম্বরে উঠে এল নাইটরা। ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১৪২ রান তোলে দিল্লি ক্যাপিটালস। রান তাড়া করতে নেমে অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নাইটরা। ১৪.২ ওভারেই জয়সূচক রান তুলে নেয় কেকেআর। ৩৪ বল বাকি থাকতে জয়। দুই দলের ব্যাটিংয়ে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। নাইটদের খেলা দেখে মনে হয়, অন্য পিচে খেলা হচ্ছে। প্রথম ইনিংসে কেকেআরের স্পিনারদের কাছে আত্মসমর্পণ দিল্লির। পাথুম নিশঙ্কা (৫০) এবং আশুতোষ শর্মা (৩৯) ছাড়া কেউ দাঁড়াতে পারেনি। ২৩ রান করেন কেএল রাহুল। বাকিরা ব্যর্থ। এদিকে ফিন অ্যালেন এবং ক্যামেরুন গ্রিনের জুটিতে লুটি। ছক্কার বন্যা বইয়ে দেয় কেকেআরের দুই বিদেশি। ৪৭ বলে ১০০ রানে অপরাজিত ফিন অ্যালেন।

চলতি আইপিএলের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল অজিঙ্ক রাহানেরা। প্রথম ছয় ম্যাচে জয়ের স্বাদ পায়নি। তারপর পরপর চার জয়। আইপিএলে প্রথম অর্ধশতরান ফিন অ্যালেনের। কঠিন পিচে জ্বলে ওঠেন। ৩২ বলে পৌঁছে যান ৫০ রানে। তারপর তোলেন ঝড়। আইপিএলের প্রথমদিকের ম্যাচেও সুযোগ পেয়েছিলেন ফিন। কিন্তু টানা তিন-চারটে ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ায়, তাঁরই সতীর্থ টিম সেইফার্টকে সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি নিউজিল্যান্ডের উইকেটকিপার ব্যাটার। টি-২০ বিশ্বকাপে দুর্ধর্ষ ফর্মে ছিলেন কিউয়িদের ওপেনিং জুটি। আইপিএলের প্রথমদিকে কয়েকটি ইনিংসে ব্যর্থ হলেও, ফর্ম ফিরে পেলেন অ্যালেন। দেখা গেল বিশ্বকাপের সেই ঝলক। বেগুনি জার্সিতে এই প্রথম পাওয়ার প্লের গণ্ডি পার করেন। জ্বলে উঠতে একটু দেরী হলেও, টুর্নামেন্টের আসল সময় স্বমহিমায় ফিন। ৪৭ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন। দুর্দান্ত ইনিংস। মারকুটে ইনিংসে ছিল ১০টি ছয়, ৫টি চার। স্ট্রাইক রেট ২১২.৭৬। অন্যপ্রান্তে ২৭ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত ক্যামেরুন গ্রিন। 

১৪৩ রান তাড়া করতে নেমে দুর্ভাগ্যবশত শুরুতেই জোড়া উইকেট হারায় কেকেআর। ভাগ্যের হাতে মার খান অজিঙ্ক রাহানে এবং অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। ৩১ রানে জোড়া উইকেট হারায়। পাওয়ার প্লের শেষে ২ উইকেট হারিয়ে নাইটদের রান ছিল ৪৩। বাকি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় নাইটদের দুই বিদেশি। তৃতীয় উইকেটে ১১৬ রানের পার্টনারশিপ ফিন এবং গ্রিনের। এদিন টসে জিতে দিল্লিকে ব্যাট করতে পাঠান রাহানে। শুরুটা ভাল করলেও, মিডল অর্ডারে ব্যাটিং বিপর্যয়। নিয়মিত উইকেট হারায় অক্ষর প্যাটেলের দল। তার খেসারত দিতে হল। শেষ ছয় ম্যাচে পাঁচটিতে হার। প্লে অফের আশা ক্রমশ কমছে রাহুলদের। এদিন জোড়া উইকেট নেন অনুকূল রায় এবং কার্তিক ত্যাগী। সুনীল নারিন নেন একটি। কোনও উইকেট পাননি বরুণ চক্রবর্তী। তবে রহস্য স্পিনারের চোট কিছুটা হলেও চিন্তার রাখবে নাইট শিবিরকে। কেকেআরের পরের ম্যাচ বিরাট কোহলিদের বিরুদ্ধে।