আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএল দেখতে গিয়ে বিপত্তি। খেলার রোমাঞ্চ ছাপিয়ে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এখন কেবলই হাহাকার। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচ দেখতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। খেলা চলাকালীন ভিড়ের সুযোগ নিয়ে গ্যালারি ও স্টেডিয়াম চত্বর থেকে কার্যত লুঠ হয়ে গেল কয়েকশো দামি মোবাইল ফোন।

পুলিশ ও দর্শকদের বয়ান অনুযায়ী, চুরির এই তাণ্ডব মূলত চলেছে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের সময়। জানা গিয়েছে, গ্যালারিতে উন্মাদনা তুঙ্গে, দর্শকরা জল ও খাবারের জন্য আসন ছেড়ে যখন যাতায়াত করছেন, তখনই হাতসাফাই সেরেছে চোরেরা। শুধু গ্যালারির ভেতর নয়, স্টেডিয়াম সংলগ্ন মেট্রো স্টেশন এবং আশেপাশের এলাকা থেকেও ফোন খোয়া যাওয়ার খবর মিলেছে।

ইতিমধ্যেই কাবন পার্ক থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। কর্নাটক পুলিশের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমেও ই-রিপোর্ট দায়ের করেছেন অনেকে। সেন্ট্রাল ডিভিশনের ডিসিপি অক্ষয় হাকায় বলেন, "এখনও পর্যন্ত ৩০টি ফোন চুরির খবর নথিভুক্ত হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছি। বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যার মধ্যে কয়েকজন নাবালকও রয়েছে।"

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চুরির সংখ্যা পুলিশের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। ঋতু তিওয়ারি নামে এক নেটিজেন সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন, অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি ফোন চুরি হয়েছে। তাঁর স্বামীর ফোনটিও খোয়া গিয়েছে। ঋতুর অভিযোগ, "স্টেডিয়ামে দায়িত্বরত পুলিশকর্মীদের জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। পরে থানায় গিয়ে দেখি সেখানেও একই অভিযোগ নিয়ে ভিড় করে আছেন বহু মানুষ।"

ঋতু জানান, পুলিশের জালে ধরা পড়া কয়েক জন শিশুর গায়েও আইপিএল-এর জার্সি ও হাতে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট ছিল। চেন্নাই বা মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেও একই কায়দায় চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বর্তমানে অভিযুক্তদের হদিশ পেতে এবং ফোনগুলি উদ্ধার করতে স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখছে পুলিশ।