মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে দিনভর ওঠানামার পর শেষ পর্যন্ত নিম্নমুখী অবস্থাতেই বন্ধ হল দুই প্রধান সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি ৫০। আন্তর্জাতিক বাজারের মিশ্র সংকেত, মার্কিন-ইরান সংঘাত নিয়ে অনিশ্চয়তা, অপরিশোধিত তেলের বাড়তি দাম এবং টাকার দুর্বলতার প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে। ফলে দিনের শেষে বাজারে লাভ তোলার প্রবণতা বাড়ে এবং তাতেই চাপে পড়ে বড় মূলধনী শেয়ারগুলি।
2
9
দিন শেষে বিএসই সেনসেক্স ১১৪ পয়েন্ট বা ০.১৫ শতাংশ কমে ৭৫,২০০.৮৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ৩২ পয়েন্ট বা ০.১৪ শতাংশ নেমে ২৩,৬১৮ পয়েন্টে শেষ করে দিনের লেনদেন।
3
9
তবে বড় সূচকে পতন দেখা গেলেও বাজারের বিস্তৃত অংশে ছিল ইতিবাচক প্রবণতা। মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
4
9
বিএসই ১৫০ মিডক্যাপ সূচক ০.৭৩ শতাংশ বেড়েছে, আর বিএসই ২৫০ স্মলক্যাপ সূচকে উত্থান হয়েছে ১.১৭ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংশোধনের পর এই দুই বিভাগে আবার নতুন করে কেনাকাটার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
5
9
এদিন বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায় কিছু ভারী ওজনের শেয়ারে। বিশেষ করে এইচডিএফসি, রিলায়েন্স এবং ভারতী এয়ারটেলের মতো বড় কোম্পানির শেয়ারে লাভ তোলার প্রবণতা সূচককে নিচের দিকে টেনে নিয়ে যায়। দিনের শুরুতে ইতিবাচক আবহ থাকলেও শেষভাগে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে।
6
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের শুরুটা আশাব্যঞ্জক ছিল। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারে—এমন জল্পনা আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছিল। তার জেরেই ভারতীয় বাজারও প্রথম দিকে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু পরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ফের বাড়ায় বাজারে সতর্ক মনোভাব দেখা যায়।
7
9
দেশীয় বাজার প্রথমে ইতিবাচক গতিতে শুরু করলেও পরে সেই লাভ ধরে রাখতে পারেনি। বড় মূলধনী শেয়ারের তুলনায় মিড ও স্মলক্যাপ শেয়ারে বেশি ক্রেতা দেখা গিয়েছে।
8
9
এছাড়া অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতীয় অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে ডলারের তুলনায় টাকার দুর্বলতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
9
9
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তেলের দাম এবং মার্কিন ফেডের নীতিগত অবস্থানের দিকে নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের। সেই সঙ্গে বিদেশি তহবিলের প্রবাহ এবং টাকার গতিপ্রকৃতিও বাজারের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।