মে মাসের মাঝামাঝি। এর মধ্যেই আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। গলদঘর্ম দশায় হাঁসফাঁস করছেন আপামর বাঙালি। চড়চড়িয়ে পারদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইলেকট্রনিক্সের দোকানে দোকানে এখন এসি কেনার হিড়িক।
2
10
এদিকে দোকানে গেলেই বিপত্তি! ১ টন, ১.৫ টন নাকি ২ টন- ঠিক কত টনের এসি আপনার ঘরের জন্য জুতসই, তা নিয়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই। ব্র্যান্ড অনুযায়ী দামেরও রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত।
3
10
অনেকেরই ধারণা, বেশি টনের এসি মানেই ঘর নিমেষে বরফ হয়ে যাবে। আবার কেউ কেউ ভাবেন, ‘টন’ বোধহয় এসির ওজনকে বোঝায়! কিন্তু আদৌ কি তাই? মধ্যবিত্তের পয়সা খরচ করার আগে এসির এই ‘টন’ রহস্যটা ঠিক কী, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।
4
10
সোজা কথায় বললে, এসির ক্ষেত্রে ‘টন’ শব্দের সঙ্গে মেশিনের ওজনের দূর-দূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি আসলে এসিটির কুলিং ক্যাপাসিটি মাপার একক।
5
10
বিজ্ঞানসম্মতভাবে এই ক্ষমতা মাপা হয় বিটিইউ (BTU) বা ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট প্রতি ঘণ্টার হিসেবে। সাধারণ এসিগুলির ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা ৫,০০০ থেকে ২৪,০০০ বিটিইউ পর্যন্ত হতে পারে। হিসাবটা অত্যন্ত সহজ। ১২,০০০ বিটিইউ/ঘণ্টা = ১ টন
6
10
অর্থাৎ, একটি ১ টনের এসি এক ঘণ্টায় ঘর থেকে ১২,০০০ বিটিইউ তাপ টেনে বের করে দিতে পারে। দেড় টনের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা দাঁড়ায় ১৮,০০০ বিটিইউ।
7
10
বেশি টনের এসি কিনলেই যে বেশি আরাম পাবেন, এই ধারণা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল। বরং ঘরের মাপের চেয়ে বেশি টনের এসি বসালে বিদ্যুতের বিল আসবে আকাশছোঁয়া। আপনার ঘরের জন্য কত টনের এসি লাগবে, তা মূলত ৩টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।
8
10
এক, ঘরের আয়তন। ঘরটি কত স্কোয়ার ফুটের, সেটাই সবচেয়ে বড় নিয়ামক। দুই, মানুষের সংখ্যা। ওই ঘরে সাধারণত কতজন মানুষ একসঙ্গে থাকেন।
9
10
তিন, বাইরের তাপমাত্রা ও রোদ। ঘরটি বাড়ির কোন তলায় অবস্থিত? সরাসরি ছাদের রোদ পড়ে কি না বা বাইরের গড় তাপমাত্রা কেমন থাকে, তাও দেখা প্রয়োজন।
10
10
রোদের তীব্রতা বেশি হলে বা ঘরে মানুষ বেশি থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঘর ঠান্ডা হতে সময় বেশি লাগে। তাই এসি কেনার আগে ঘরের মাপজোখ বুঝে সঠিক টনেজ বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে ঘর যেমন আরামদায়কভাবে ঠান্ডা হবে, তেমনই নিয়ন্ত্রণে থাকবে মাসের বিদ্যুতের বিলও।