আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডার্বিতে ম্যাকলারেনের শটে অনবদ্য সেভ এমিলিয়ানো মার্টিনেজের কথা মনে পড়ায়। ফাইনালে আর্জেন্টিনার গোলকিপারের একটি সেভ মেসিদের বিশ্বকাপ দেয়। ডার্বির এই সেভের সঙ্গে আইএসএল জয়ের তুলনা টানা হচ্ছে। কিন্তু সেটা মানতে নারাজ প্রভসুখন গিল। ইস্টবেঙ্গলের কিপার মনে করেন, এই সাফল্য মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তাই কৃতিত্ব তাঁর একার নয়। গিল বলেন, 'শুধু সেভ ট্রফি দিয়েছে এটা বলা উচিত নয়। সেটা ঠিক হবে না। কারণ আমাদের ১৩টা ম্যাচ খেলতে হয়েছে। পুরো মরশুমটা আমাদের একসঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। ওই মুহূর্তে আমি কিছু করার সুযোগ পেয়েছি, করেছি। ভাগ্যক্রমে সেভ হয়েছে।' ১২ বছর পর সুপার কাপ দিয়ে ইস্টবেঙ্গলের ট্রফির খরা কাটে। সেবারও উৎসবে মাতে সমর্থকরা। কিন্তু এবার সেই সেলিব্রেশন দ্বিগুণ। জানান, পেশাদার ফুটবলার হিসেবে এটাই জীবনের সেরা মুহূর্ত। গিল বলেন, 'অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না। আমরা সুপার কাপ জিতেছিলাম। তখন একটা আভাস পেয়েছিলাম। ওটা ট্রেলার ছিল। এবার ঘরের মাঠে জিতেছি। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে এর থেকে ভাল অনুভূতি হতে পারে না। এটা শুধুমাত্র খেলে অর্জন করা যায়। কেনা যায় না। যতদিন পেশাদার ফুটবল খেলছি, এটাই আমার সেরা অনুভূতি এবং সেরা সেভ।'
একটা সময় যখন টানা ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল দল, সমালোচিত হতে হয় ফুটবলারদের। কিন্তু সেই অভিমান মনে পুষে রাখেননি গিল। বরং, সেটা থেকে আগামীর শিক্ষা নেন। দাবি করেন, গোল্ডেন গ্লাভস হাতছাড়া হওয়ার কোনও আফশোস নেই। খেতাব জয় উপভোগ করতে চান। গিল বলেন, 'ভালর সঙ্গে খারাপ থাকে। আবার খারাপের সঙ্গে ভালও থাকে। সমালোচনাও ইতিবাচকভাবে নিতে হয়। তাহলে উন্নতি করা যায়। আমি গোল্ডেন গ্লাভস নিয়ে ভাবছি না। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ট্রফি জয় উপভোগ করতে চাই।' মোহনবাগানের হয়ে ট্রফি জিতেছেন, বর্তমানে ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে হয়ে গিয়েছেন। এর রহস্য কী? প্রশ্ন উঠতেই হেসে ফেলেন শৌভিক। জানান, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই এগিয়েছেন। শৌভিক বলেন, 'আমি চেষ্টা করি হাসিখুশি থাকতে। সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে। সিনিয়র প্লেয়ারদের দায়িত্ব শুধু মাঠে থাকে না, ড্রেসিংরুম সামলানোতেও থাকে। অতীতে দেখেছি, সিনিয়ররা না খেলালে রেগে যায়। পেছনে কথা বলে। বাজে পরিবেশ তৈরি করে। এবার আমাদের সেটা ছিল না।'
আগেও আইএসএল জিতেছেন শৌভিক। কিন্তু এবারের খেতাব আলাদা। আগের সঙ্গে তুলনা টানতে চান না। শৌভিক বলেন, 'এটার সঙ্গে কোনও তুলনা হয় না। আমি বাঙালি। এরকম একটা আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছি। বাঙালি হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি পরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তাই ওটার সঙ্গে তুলনা চলে না। এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া কঠিন ছিল। অনেক বছর পর। তারওপর সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকে। প্রত্যাশা মেটাতে গেলে চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে হয়। তাই এবার বেশি কঠিন ছিল।' চলতি আইএসএলের শুরুটা ভাল হলেও, মাঝে হোঁচট খায় ইস্টবেঙ্গল। তারপর ফের প্রত্যাবর্তন। ঠিক কবে থেকে খেতাব জয়ের আভাস পেয়েছিলেন? শৌভিক বলেন, 'অনেকের আলাদা মত হতে পারে। তবে আমার মনে হয়, দশজন মিলে বেঙ্গালুরু ম্যাচটা আমাদের বাড়তি মোটিভেট করেছে।' ইতিহাস লিখেছে ইস্টবেঙ্গল। এই সময়টা শুধুই উপভোগ করতে চান গিল, শৌভিকরা।















