আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে স্বস্তি ফিরল জঙ্গিপুর ও রঘুনাথগঞ্জবাসীর। জমি মাফিয়াদের কবল থেকে মুক্ত হলো এলাকার ‘ফুসফুস’ এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের আবেগ, ঐতিহাসিক ম্যাকাঞ্জি পার্ক ময়দান। জঙ্গিপুরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখার্জীর জেদেই সম্ভব হলো এই উদ্ধার অভিযান।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই এই খেলার মাঠটির ওপর নজর ছিল স্থানীয় প্রভাবশালী জমি মাফিয়াদের। ক্ষমতার দম্ভে মাঠটি দখলের উদ্দেশ্যে তারা মাঠের মাঝখান দিয়েই বেআইনিভাবে কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করে ফেলেছিলো। ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠকে এভাবে খণ্ড-বিখণ্ড করার নজিরবিহীন ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছিল যমজ শহরের মানুষ। পাশাপাশি প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তায় জমি মাফিয়ারা বুক ফুলিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছিল।

সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও আবেগকে মর্যাদা দিয়ে নির্বাচনের পরেই ময়দানে নামলেন বিধায়ক চিত্ত মুখার্জী। "জনগণের সম্পত্তি কোনওভাবেই মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না"। এই নীতিতে অটল থেকে তাঁরই সরাসরি উদ্যোগে ম্যাকাঞ্জি পার্কে নামলো বুলডোজার।

মাঠের বুক চিরে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা কংক্রিটের রাস্তা নিমেষে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। জঙ্গিপুরের ইতিহাসে জমি মাফিয়াদের দাপট রুখতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ফেরাতে এমন কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ এই প্রথম। বিধায়কের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ জমি মাফিয়া চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মতে, ম্যাকাঞ্জি পার্ক শুধু মাঠ নয়, এটি শহরের সংস্কৃতি, ক্রীড়া চর্চা এবং কিশোর-যুবকদের শৈশব-কৈশোরের আবেগ। মাঠটি পূর্বাবস্থায় ফিরে পাওয়ায় এলাকায় এখন স্বস্তির হাওয়া। এলাকাবাসী ও ক্রীড়াপ্রেমী সংগঠনগুলি বিধায়ক চিত্ত মুখার্জীকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সুখদেব দাস নামে এক এলাকাবাসী জানিয়েছেন, "এই মাঠের পাশে একটি পুকুর ছিল। মাঠের জল গিয়ে পুকুরে পড়তো। কিন্তু পূর্বতন সরকারের আমলে জমি মাফিয়াদের  তান্ডবে জোর করে এই পুকুর ভরাট করা হয়। সেই সময় আমরা সমাজমাধ্যমে এই নিয়ে প্রচুর আন্দোলন করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের তরফে আমাদের কোনও সাহায্য করা হয়নি এবং আমরা পুকুর ভরাট রুখতে পারিনি। শুধু তাই নয়, এই মাঠটিকে জমি মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মাঠের মাঝ বরাবার কংক্রিটের রাস্তা তৈরি হয়। ফলে খেলাধুলার জন্যে আমরা এই মাঠকে আর ব্যবহার করতে পারতাম না।"  

তিনি আরও বলেন, " এখন বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আমাদের বিধায়ক চিত্ত মুখার্জি সহায়তায় আমরা আবার এই মাঠ পুনরুদ্ধার করতে পারলাম ।"

একাধিক এলাকাবাসীর কথায়, "আমরা ভাবতেই পারিনি এই মাঠ আর ফিরে পাব। চিত্তবাবুর এই সাহসী পদক্ষেপ জঙ্গিপুরের ইতিহাসে লেখা থাকবে। মাঠ বাঁচিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, জনমতই শেষ কথা।"

মাঠ পুরোপুরি দখলমুক্ত হওয়ার পর স্থানীয়দের তৎপরতায়  এবার সেখানে নতুন করে খেলাধুলা ও সুস্থ সংস্কৃতির পরিবেশ ফেরানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে।