আজকাল ওয়েবডেস্ক: অসুস্থ ছিলেন বেশ কিছুদিন ধরেই। মৃত্যু হল প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার সদাতুল্লাহ খানের। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)।
মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে স্বল্প অসুস্থতার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দক্ষ ড্রিবলার হিসেবে পরিচিত সদাতুল্লাহ খান ছিলেন এক অসাধারণ ফরোয়ার্ড।
কঠিন ট্যাকল করতেও তিনি পিছপা হতেন না এবং বিপক্ষ রক্ষণের কাছে ছিলেন একপ্রকার আতঙ্কের নাম। বল পায়ে নিয়ে হাফ টার্ন কিংবা ফুল টার্নে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার দক্ষতা ছিল তাঁর অন্যতম বড় শক্তি।
একবার বল তাঁর নিয়ন্ত্রণে এলে, তা কেড়ে নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠত। এই অসামান্য দক্ষতার জোরেই তিনি ১৯৬৮ সালের মারডেকা কাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।
১৯৬৮ সালের ১১ আগস্ট কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তাঁর। ওই প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে মোট পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন সদাতুল্লাহ খান এবং তিনটি গোল করেন।
দুটি দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে ও একটি মায়ানমারের বিরুদ্ধে। ঘরোয়া ফুটবলেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৫ ও ১৯৬৬ সালে সন্তোষ ট্রফিতে মাইসোরের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
ক্লাব পর্যায়ে দেশের একাধিক প্রথম সারির দলে খেলে তিনি একটি স্মরণীয় কেরিয়ার গড়ে তোলেন। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের জার্সিতে সদাতুল্লাহ খান ১৯৬৭ সালে কলকাতা ফুটবল লিগ জেতেন।
ক্লাবের ইতিহাসে সেবারের শিরোপা জয়ের অন্যতম কারিগর হিসেবে তাঁকে গণ্য করা হয়। ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ব্রিগেড’-এর হয়ে তিনি ১৯৭০ সালে স্ট্যাফোর্ড কাপ ও বরদলই ট্রফিও জয় করেন।
১৯৬৯ সালে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেন সদাতুল্লাহ খান এবং সে বছর রোভার্স কাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তিনি ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে বেঙ্গালুরুর আইটিআই ক্লাবের হয়েও মাঠে নামেন।
ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। এদিন ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদাতুল্লাহ খানের প্রয়াণে গোটা ভারতীয় ফুটবল মহল গভীরভাবে শোকাহত এবং তাঁর স্মরণীয় অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।
