আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রিকেট মাঠের এক তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ঘটনার অভিজ্ঞতাকেই এবার ব্যবসায় পরিণত করলেন নিউজিল্যান্ডের তারকা ব্যাটার এবং প্রাক্তন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

ব্যাটারদের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ সুরক্ষিত রাখতে তিনি বাজারে এনেছেন ‘প্রিমিয়াম অ্যালয়’ বক্সের নতুন ব্র্যান্ড। ব্যাট করার সময় বলের থেকে কুঁচকির অংশকে রক্ষা করতে যে সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেটিই ‘বক্স’ নামে পরিচিত।

অনেক সময় ১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টারও বেশি গতির বলের মুখোমুখি হতে হয় ব্যাটারদের, তাই এই সুরক্ষা সরঞ্জাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উইলিয়ামসন জানান, ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেইনের একটি বল তার বক্স ফাটিয়ে দেয়। সেই ঘটনার পরই তিনি বুঝতে পারেন, আধুনিক ক্রিকেটের দ্রুতগতির বলের সামনে প্রচলিত সুরক্ষা সরঞ্জাম যথেষ্ট নয়। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে ‘কভার’ নামে নতুন ব্র্যান্ড তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

এক বিবৃতিতে প্রাক্তন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক বলেন, ‘বিষয়টা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল। ডেল স্টেনের বলের গতি এতটাই বেশি ছিল সেটা সজোর আমার কুঁচকির ওপরের অংশে লাগে। বলের আঘাতে আমার বক্স ফেটে যায়। তখনই বুঝতে পারি, ক্রিকেটারদের বলের আঘাত থেকে বাঁচতে কুঁচকির অংশে যে পরিমাণ নিরাপত্তা দেওয়া হয় তা আধুনিক ক্রিকেটের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।’

উল্লেখ্য, ডেল স্টেন অবসর নেওয়ার সময় উইলিয়ামসন সেই ঘটনার পরবর্তী অবস্থার একটি ছবি শেয়ার করে তাকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন।

এই সংস্থায় উইলিয়ামসনের পার্টনার জেসন লো জানান, নতুন বক্সটির অ্যালয় শেল ২০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টারও বেশি গতির বলের আঘাত সহ্য করতে সক্ষম।

শুধু ক্রিকেট নয়, হকি, ল্যাক্রস বা বেসবলের মতো শক্ত বলের খেলাতেও এটি সুরক্ষা দিতে পারবে খেলোয়াড়দের। ক্রিকেটে বক্স বহুদিন ধরেই অপরিহার্য সুরক্ষা সরঞ্জাম হলেও মাঝে মধ্যেই দ্রুতগতির বলে আঘাত পেয়ে খেলোয়াড়দের কষ্ট পেতে দেখা যায়।

যেমন, গত মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন অনুশীলনে বলের আঘাতে কুঁচকিতে গুরুতর চোট পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মিচেল মার্শকে দুটি ম্যাচ মিস করতে হয়েছিল।

এই ব্যবসায়িক উদ্যোগে বিনিয়োগ করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটসহ একাধিক বিনিয়োগকারী। সংস্থার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রাক্তন ব্ল্যাক ক্যাপস গ্রান্ট এলিয়ট।

তিনি বলেন, ‘ক্লাব ক্রিকেট থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বহু ক্রিকেটারের সামনে আমরা এই বক্স উপস্থাপন করেছি এবং সবার প্রতিক্রিয়াই অত্যন্ত ইতিবাচক। আমার মতে, এটিই বিশ্বের সেরা বক্স।’