আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেনিনজাইটিসকে হার মানিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন তারকা ড্যামিয়েন মার্টিন। যে অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছেন, সেই সম্পর্কে চ্যাম্পিয়ন অজি ক্রিকেটার বলেন, ''জীবন কত ভঙ্গুর।''
দু'বারের বিশ্বজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ড্যামিয়েন মার্টিন। ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে সৌরভ গাঙ্গুলির স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিলেন। রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপে করেছিলেন ২৩৪ রান। তার মধ্যে তিনি নিজে করেছিলেন ৮৮ রান। সেই ড্যামিয়েন মার্টিন গত বছর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছেন। একসময়ে তাঁকে কোমায় রাখা হয়েছিল।
২৬ ডিসেম্বর বা বক্সিং ডে-তে অনেক টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ড্যামিয়েন মার্টিন। কিন্তু গত বছরের বক্সিং ডে-টা তাঁর কাছে ছিল অন্যরকমের। বিশ্রাম নেওয়ার জন্য শুয়েছিলেন। তার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু যুদ্ধের সৈনিক। এহেন ড্যামিয়েন মার্টিন মেনিনজাইটিসকে হার মানিয়ে তিনি ফিরে এসেছেন নিজের বাড়িতে।
ড্যামিয়েন মার্টিন বলেছেন, ''২০২৬-এর শুরুতেই আমি ফিরে এসেছি। ঘরে ফিরে খুব ভাল লাগছে। সমুদ্রসৈকতের নোনা বালিতে পা রাখতে পেরে বেশ ভাল অনুভূতি হচ্ছে। সেই সব মানুষদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা আমাকে দুঃসময়ে সাপোর্ট করে গিয়েছেন।''
এই দুঃসহ অভিজ্ঞতা ড্যামিয়েন মার্টিনকে শিখিয়ে গিয়েছে, জীবন কত ভঙ্গুর। মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু বদলে যেতে পারে। সময় কত মূল্যবান এখন তা বুঝতে পারছি।
ড্যামিয়েন মার্টিন আরও বলেছেন, ''২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর আমার জীবন প্রায় কেড়ে নিয়েছিল মেনিনজাইটিস। আমার মস্তিষ্কের দখল নিয়ে নিয়েছিল। প্রায় ৮ দিন প্যারালাইজড কোমায় পড়েছিলাম এই রোগের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য। আমার লড়াই সফল হয়েছে। পঞ্চাশ-পঞ্চাশ সুযোগ ছিল। আমি কোমা থেকে ফিরে এসেছিলাম। হাঁটতে পারতাম না, কথাও বলতে পারতাম। কিন্তু চার দিন পরে চিকিৎসকরাও বিস্মিত হয়ে যান আমাকে দেখে। আমি হাঁটতে সক্ষম হই, আমি কথা বলতে শুরু করি।'
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৬৭টি টেস্টে ১৩টি সেঞ্চুরি ও ২৩টি পঞ্চাশ-সহ ৪,৪০৬ রান করেন মার্টিন।
২০৮টি ওয়ানডেতে ৫টি সেঞ্চুরির মালিক তিনি। তাঁর ঝুলিতে ৫৩৪৬ রান। স্টিভ ওয়া ও রিকি পন্টিংয়ের দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন মার্টিন।
১৯৯৯ ও ২০০৩ বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যও ছিলেন ড্যামিয়েন মার্টিন।
১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। ১৯৯৪ সালে সিডনি টেস্টে খেলার পর ছয় বছর তিনি টেস্ট দলের বাইরে ছিলেন। ২০০০ সালে টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর।
সেই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ছিল বিভীষিকাময় এক দল। সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ড্যামিয়েন মার্টিন।
সেই চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার ফিরে এসেছেন জীবনের মূল প্রবাহে। জীবনকে আবার নতুন করে উপভোগ করতে চান তিনি। একদিন ভয়ঙ্কর বোলারদের বিরুদ্ধে জিতেছিলেন ব্যাট হাতে, এবার সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে বাড়ি ফিরলেন ড্যামিয়েন মার্টিন।
