আজকাল ওয়েবডেস্ক: মিশরের উত্তর উপকূলে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা "জিকো" আবদেলরউফ। 

ঠিক সেই সময় জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসানের ফোন কল বদলে দেয় তাঁর জীবন। জাতীয় দলে ডাক পেয়ে ছুটির পরিকল্পনা বাতিল করে সরাসরি যোগ দেন বিশ্বকাপ দলে। আর সেই সুযোগই এখন তাঁকে পরিণত করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ফুটবলারে। 
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তাঁর গোল বাতিল হয়। তার পরই আবার গোল করেন জিকো। কিন্তু তাঁর মুখের হাসি কিছুক্ষণের মধ্যেই মলিন হয়ে যায়। 

চোখের জল ফেলতে ফেলতে জিকো বলেন, ''রেফারিং মোটেও ন্যায্য ছিল না। আমাদের সঙ্গে স্পষ্ট অবিচার করা হয়েছে।" 


তিনি আরও বলেন, "ম্যাচের শুরু থেকেই আমরা ভাল খেলছিলাম। কিন্তু শুরু থেকেই আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে ২-০ গোলের লিডও যথেষ্ট হল না।"

জিকো আরও অভিযোগ করে বলেন, "এটা স্পষ্ট যে এই টুর্নামেন্ট আগে থেকেই সাজানো ছিল।"
নীল-সাদা জার্সিধারীদের জালে বল জড়ানোর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মিশরের ৩-১ গোলের জয়ে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন জিকো।
কিউয়িদের বিরুদ্ধে ম্যাচের পরে জিকো বলেছিলেন, “আমি জাতীয় দলের বাইরে ছিলাম এবং সত্যি বলতে ডাক পাওয়ার আশা করিনি। আমি উত্তর উপকূলে ছুটি কাটাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ কোচ হোসাম হাসানের ফোন পেলাম। মুহূর্তেই ছুটির পরিকল্পনা বদলে আমি বিশ্বকাপে।”

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকোর থেকে তাঁর নাম মোস্তাফা জিকো।  বিশ্বকাপের আগে রাশিয়া ও ব্রাজিলের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচেও গোল করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর দুর্দান্ত ব্যাক হিল থেকে সালাহকে গোলের গন্ধ মাখা বল বাড়িয়েছিলেন জিকো।  
তাঁর বাবার জুতার দোকানে পরিবারের কাজে সহায়তা করা থেকে শুরু করে মিশরের নিম্ন বিভাগে বছরের পর বছর খেলেছেন তিনি। সেখান থেকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উঠে এসে তিনি বিশ্বকাপে গোল করেছেন। কিন্তু তাঁর যাত্রা শেষ হয়ে গেল আর্জেন্টিনার কাছে হেরে।