আজকাল ওয়েবডেস্ক: মিশরের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয় তুলে নেওয়ার পর রেফারিং নিয়ে ওঠা বিতর্কে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। 

ম্যাচ শেষে একাধিক বিশেষজ্ঞ ও সমর্থক রেফারির কিছু সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ তুললেও, সেই দাবি একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন মেসি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, ''সত্যি বলতে রেফারিং ছিল দুর্দান্ত। প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তই ছিল নিখুঁত। আপনারাই বলুন, রেফারি কোন সিদ্ধান্তটি ভুল নিয়েছেন? আমি রেফারির সিদ্ধান্তে খুবই সন্তুষ্ট।''

মিশরের বিরুদ্ধে একটা সময় খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৩৯ বছর বয়সী মেসির স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। 

ম্যাচের দুই অর্ধে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিকোর গোলে মিশর ২-০-এর লিড নিয়ে নেয়। জিকোর একটা গোল বাতিল করা হয়। 

তবে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে রোমেরোর হেড থেকে আসে আর্জেন্টিনার প্রথম গোল। এরপর ৮৩ মিনিটে টুর্নামেন্টে নিজের অষ্টম এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে রেকর্ড ২১ নম্বর গোল করে ২-২ সমতা ফেরান মেসি। যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করেন ফার্নান্দেজ। 

শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। কাঁদতে থাকেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আর সেই আবেগঘন মুহূর্তের মধ্যেই রেফারিং নিয়ে সব বিতর্কে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দেন তিনি। 

এদিকে আর্জেন্টিনার জয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল ফিফা। মেসিরা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হত ফুটবলের সর্বাধিক নিয়ামক সংস্থাকে। আপাতত স্বস্তি।

এই নাটকীয় জয় শুধু আর্জেন্টিনার জন্য নয়, স্বস্তি এনে দিয়েছে ফিফাকেও। কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপে বাণিজ্যিক আয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করছে জনপ্রিয় দল এবং তারকাদের অগ্রযাত্রার ওপর। মেসিদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকা সেদিক থেকে ফিফার আর্থিক স্বার্থও রক্ষা করেছে। টিকিট বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা 'টিকিট ডেটা'র পরিসংখ্যানেও তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। ম্যাচ চলাকালীন টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য (গেট-ইন প্রাইস) খেলার গতিপ্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওঠানামা করেছে।