আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুবভারতীর সন্ধ্যাটা আজ একটু অন্যরকমই হবে। বাকি দিনগুলোর থেকে সব অর্থেই হয়তো আলাদা হবে।
আইএসএলের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লক্ষ্মীবারের সন্ধ্যায় মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও বেঙ্গালুরু এফসি।
সবুজ ঘাসের বুকে এ কেবল একটা ম্যাচ নয়, স্মৃতি-ভালবাসা বিছিয়ে দেবে এক অন্য আবেগ।
ইস্টবেঙ্গল বনাম বেঙ্গালুরু এফসি, কাগজে কলমে এক লড়াই। খেলা শুরু হলে দেখা যাবে দুই দলের দুই কোচের মগজাস্ত্রের লড়াই।
কিন্তু এর বাইরেও রয়েছে নীরব এক গল্প। ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গলের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে উঠেছে এক আবেগী ছবি, যখনই লাল-হলুদ নামে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে, তখন গ্যালারির সীমা ছাড়িয়ে, অদৃশ্য কোনও আসনে বসে থাকেন দুই অনন্য সমর্থক--রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুনীত রাজকুমার।
সময়ের সীমানা পেরিয়ে, তাঁরা আজও যেন দেখছেন প্রিয় দলের লড়াই--নিঃশব্দে, অথচ গভীর অনুভবে। কয়েকদিন আগে শুটিং করতে গিয়ে তালসারিতে প্রয়াত হন রাহুল। কিন্তু ভালবাসা কি কখনও থামে?
ইস্টবেঙ্গল তাঁর কাছে শুধু একটা ক্লাব ছিল না। ডার্বির দিনে লাল-হলুদের ঢেউ, পাড়াজুড়ে জার্সির রং, লরিভর্তি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস—এসবই ছিল তাঁর জীবনের অংশ।
আজ তিনি নেই, কিন্তু সেই আবেগ, সেই উন্মাদনা এখনও বেঁচে আছে। কংক্রিটের গ্যালারিতে আজও তাঁর নামে উঠবে স্লোগান। দেখা যাবে তাঁকে নিয়ে একবুক আবেগ।
অন্যদিকে পুনীত রাজকুমার, কন্নর ছবির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আগেই ঝরে গিয়েছেন। বিরল এক হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন তিনি। নিঃশব্দে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন মানবতার আলো।
হাজার হাজার মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রায় ১,৮০০ অনাথ কন্যার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা, এ কোনও গল্প নয়, এ এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।
আজকের ম্যাচ তাই শুধুই তিন পয়েন্টের লড়াই নয়। চার নম্বর আর পাঁচ নম্বরের হিসেবের আড়ালে আজ লুকিয়ে আছে হৃদয়ের গভীর টান। লক্ষ্মীবারের সন্ধ্যায় যুবভারতীর গ্যালারি গর্জে উঠবে, হাজারো কণ্ঠে ধ্বনিত হবে সমর্থনের ঢেউ, কিন্তু সেই শব্দের মাঝে কোথাও, তাঁরা থাকবেন আবেগ হয়ে, ভালবাসা হয়ে।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর পুনীত রাজকুমার আজ নেই, তবুও তাঁরা আছেন। জীবনের সঙ্গে মিশে জীবনের গল্প হয়েই থাকবেন।
















