ইস্টবেঙ্গল - ২ (এজ্জেজারি-পেনাল্টি, নন্দকুমার)

মুম্বই সিটি এফসি - (ব্র্যান্ডন)

আজকাল ওয়েবডেস্ক: নন্দকুমারের অনবদ্য গোল, মিগুয়েল জাদুতে ঘুরল ম্যাচ। এক গোলে পিছিয়ে থেকে ২-১ গোলে জয়। মঙ্গলবার মুম্বই সিটি এফসিকে হারিয়ে লিগ টেবিলের একনম্বরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট অস্কার ব্রুজোর দলের। এক ম্যাচ বেশি খেলে একই পয়েন্ট জামশেদপুর এফসির। কিন্তু গোল পার্থক্যে এগিয়ে লাল হলুদ। বহাল খেতাব লড়াইয়ে। মুম্বই ফুটবল এরিনায় নিজেদের অপরাজেয় তকমা ধরে রাখল ইস্টবেঙ্গল। সৌজন্যে মিগুয়েল ফিগুয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই ম্যাচের রং বদলে দিলেন। এককথায়, গেমচেঞ্জার। ম্যাচের দখল নিজের হাতে নিয়ে নেন ব্রাজিলীয়। পেনাল্টি আদায় করে দেন তিনিই। নির্বাসন থেকে ফিরেই স্বমহিমায়। ফলস্বরূপ, চলতি আইএসএলের ষষ্ঠ জয় তুলে নিল ইস্টবেঙ্গল। বিরতিতে অস্কার ব্রুজোর মাস্টারস্ট্রোক। নামান মিগুয়েল এবং এজ্জেজারিকে। তাতেই ঘুরল ম্যাচ। প্রথমার্ধ মুম্বইয়ের, দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের। প্রথম ৩০ মিনিটে ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত মুম্বই। পুরোপুরি ব্যাকফুটে ছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু একের পর এক মিস। নব্বই মিনিটের শেষে নিশ্চয়ই আফশোস করবেন কোচ পিটার ক্রাঙ্কি। 

ওড়িশার বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ের পর শক্তিশালী মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে নেমেছিল ইটবেঙ্গল। চ্যাম্পিয়নশিপে টিকে থাকতে জয় ছাড়া কোনও গতি ছিল না। কিন্তু প্রথমার্ধের খেলায় সেই তাগিদ চোখে পড়েনি। আগের দিন দুই প্রান্তে বিপিন এবং বিষ্ণুর কম্বিনেশন ছিল অনবদ্য। কিন্তু এদিন দু'জনেই কিছুটা ফিকে। শুরু থেকেই মুম্বইয়ের দাপুটে ফুটবলের জন্য আক্রমণে উঠতে পারেনি। এদিন মাঝমাঠ ম্লান রশিদ। সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগ্রাসী ফুটবল চ্যাংতে, বিক্রমদের। ম্যাচের ৮ মিনিটে মুম্বইকে এগিয়ে দেন ব্র্যান্ডন ফার্নান্দেজ। আকাশ মিশ্রর লং থ্রো। বক্সের মধ্যে ক্লিয়ার করতে পারেনি লাল হলুদের ডিফেন্ডাররা। বিপক্ষের কিপার প্রভসুখন গিলের মাথার ওপর দিয়ে বল গোলে ঢুকে যায়। চলতি আইএসএলে ব্র্যান্ডনের দ্বিতীয় গোল। শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলে মুম্বই, তারই ফল মেলে। ২২ মিনিটের মাথায় নিশ্চিত সিটার মিস চ্যাংতের। বক্সের মধ্যে সামনে একা ইস্টবেঙ্গল কিপার। শুধু গোলে ঠেলতে হত। কিন্তু ঠিকমতো রিসিভ করতে পারেননি মুম্বইয়ের তারকা ফুটবলার। তালুবন্দি করেন প্রভসুখন। 

ম্যাচের ৩০ মিনিটে তৃতীয় গোল পেতে পারত মুম্বই। কিন্তু সামনে প্রভসুখন গিলকে একা পেয়েও তেকাঠিতে রাখতে পারেননি। বিক্রমের লব পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।প্রথম আধ ঘণ্টার মধ্যেই ৩-৪ গোলে পিছিয়ে পড়তে পারত ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু নৈপুণ্যের অভাব ছিল মুম্বইয়ের। কোনওক্রমে বেঁচে যায় লাল হলুদের রক্ষণ। প্রথমার্ধে কাউন্টার অ্যাটাক ভিত্তিক ফুটবল খেলে ইস্টবেঙ্গল। বার দুয়েক বিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়লেও, নির্বিষ আক্রমণ। গোল লক্ষ্য করে কোনও শট নেই। ম্যাচের ৪২ মিনিটে আবার সুযোগ পায় মুম্বই। চ্যাংতের পাস থেকে বল রিসিভ করেন বিক্রম। তারপর গড়ানো শট সরাসরি লাল হলুদ কিপারের হাতে তুলে দেন ব্র্যান্ডন। 

বিরতির পর থেকে ম্যাচে ফেরে ইস্টবেঙ্গল। তিনটে পরিবর্তন পার্থক্য গড়ে দেয়। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ইউসেফ এজ্জেজারি। বক্সের মধ্যে মিগুয়েলকে ফাউল করেন জনি কাউকো। নিশ্চিত পেনাল্টি। স্পট কিক থেকে আইএসএলে নিজের দশ নম্বর গোল করেন এজ্জেজারি। স্কোরারদের তালিকায় একনম্বরে। প্রথমার্ধ মুম্বইয়ের হলেও, দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক বদলে ম্যাচে ফেরে ইস্টবেঙ্গল। বিরতিতে জেরি, রশিদ এবং অ্যানটনের পরিবর্তে অস্কার নামান মিগুয়েল, এজ্জেজারি এবং সৌভিককে। দুই বিদেশিকে প্রথম থেকে কেন নামালেন না ব্রুজো সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ম্যাচের ৭১ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেয় নন্দকুমার। দুরন্ত গোল। মাঝমাঠ থেকে বল ধরে অনেকটা জমি কভার করে ডান পায়ের দূরপাল্লার শটে গোল। বক্সের বাইরে থেকে অনবদ্য গোল। সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল মুম্বই। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে গোল করেন চ্যাংতে। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। শেষদিকে লাল হলুদ রক্ষণকে চাপের মুখে ফেলে দেয়। কিন্তু প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান প্রভসুখন।