ইস্টবেঙ্গল-৩ (আনোয়ার, ক্রেসপো, অ্যান্টন)

বেঙ্গালুরু এফসি- ৩ (আশিক, সুরেশ, রায়ান)

কৌশিক রায়

বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে গ্যালারির বাইরে মাইকে ঘোষণা হচ্ছিল, গ্যালারিতে শান্তি বজায় রাখুন। ঘোষণাটা অবশ্যই সমর্থকদের উদ্দেশে। কিন্তু এই একই ঘোষণাটা কেউ যদি মিগুয়েলের কানেও দিয়ে রাখতেন এদিন তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারত ইস্টবেঙ্গল। 

প্রায় ৭০ মিনিট ১০ জন নিয়ে লাল হলুদ যেভাবে খেলল তাতে দলের মূল ইঞ্জিন মিগুয়েল যদি যোগ দিতেন ফল যে বদলাতে পারত না সেটা কে বলতে পারে। ম্যাচের ফল এদিন ৩-৩। যে ড্যানিশ স্ট্রাইকারকে এতদিন ধরে তুলোধোনা করছিলেন লাল হলুদ সমর্থকরা সেই অ্যান্টনই শেষ মুহূর্তে গোল করে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখলেন ইস্টবেঙ্গলকে।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে অস্কার মাঠে ঢুকে ধন্যবাদ জানালেন সমর্থকদের। বাকি ম্যাচের স্পটলাইট এদিন কেড়ে নিয়েছেন রেফারি অশ্বিন। ২৫ মিনিটের পর থেকে একের পর এক ফাউলে জড়াল দুই দলই। লাল কার্ড খেলেন  ইস্টবেঙ্গলের মিগুয়েল এবং সহকারী কোচ আদ্রিয়ান রুবিও।

হলুদ কার্ডের সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবে না। এদিন ম্যাচের শুরুতে ডিফেন্স থেকে রোশন সিংয়ের বাড়ানো লং বল ধরে ১২ মিনিটে বিশ্বমানের গোল করেন আশিক। জামশেদপুর এবং পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের লিস্টন এবং সাহাল দুর্ধর্ষ লং রেঞ্জারে জাল কাঁপিয়েছিলেন। এদিন ম্যাচের শুরুতেই অসামান্য দক্ষতায় বল জালে জড়ালেন প্রাক্তন সবুজ মেরুন তারকা। গিলের কিচ্ছু করার ছিল না। বাঁ পায়ের ডবল টাচে ডান পায়ে বল নিয়ে গোলার মতো শট। বল জালে জড়াতেই স্লাইড দিয়ে সেলিব্রেশন করলেন তিনি। কোলে নেওয়ার ভঙ্গিমা নিয়ে গোল উৎসর্গ করলেন সদ্যোজাতকে। গোল শোধ হতে বেশিক্ষণ সময় লাগেনি।

২১ মিনিটেই কর্নার কিক থেকে দুর্ধর্ষ ব্যাক ভলিতে সমতা ফেরান আনোয়ার আলি। মিগুয়েলের কর্নার থেকে ভাসানো বলে সিবিলে হেড করেন। জটলার মধ্যে ভারতীয় ডিফেন্ডারের সপাটে ব্যাক ভলিতে পরাজিত হন গুরপ্রীত। ম্যাচের আসল ঘটনা তো ঘটল ইস্টবেঙ্গল সমতা ফেরানোর পর। ম্যাচের বয়স তখন ২৫ মিনিট। সেন্টার লাইনের পাশেই বল দখলের লড়াই চলছিল আশিক কুরুনিয়ান এবং মিগুয়েল ফেরেরার মধ্যে। আচমকা আশিককে গলা ধাক্কা দেন মিগুয়েল। নিমেষে দুই দলের ফুটবলাররা বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এমনকী, ইস্টবেঙ্গলের এসিস্ট্যান্ট কোচ আদ্রিয়ানোও ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন।

এর মধ্যেই রেফারি লাল কার্ড দেখান মিগুয়েলকে। পরিস্থিতি আরও গরম হয়ে ওঠে, ছুটে আসেন অস্কারও। মিগুয়েল মাঠ ছাড়ার সময় বলটা নিয়ে যেভাবে বেঙ্গালুরুর ডাগ আউটে বসা ফুটবলারদের লক্ষ্য করে লাথি মারলেন তাতে এই বিতর্ক অনেক দূর গড়াবে। এমনকী, সাসপেনশনের মুখোমুখিও হতে পারেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। শুধু লাল কার্ড খেলে এক ম্যাচ হয়তো বাইরে থাকতে হত। ক্লাবের তরফে আবেদন করলে শাস্তির খাঁড়া উঠেও যেতে পারত। কিন্তু অনর্থক ঝামেলায় জড়িয়ে লাথালাথি এবার লিগের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ব্রাজিলিয়ান তারকার নির্বাসনের আশঙ্কায় ভুগতে হবে লাল হলুদকে।

ঝামেলার পর খেলা শুরু হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই  ফের ব্যবধান বাড়ায় বেঙ্গালুরু। ৩৯ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের মাইনাস থেকে বাড়ানো সোজা বল গ্রিপ করতে পারেননি গিল। আশেপাশে কোনও ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডারও ছিলেন না। সুরেশ সিং ফাঁকায় এসে গোল করে যান। ৫৬ মিনিটে সমতা ফেরায় লাল হলুদ। সৌজন্যে ম্যাচের সেরা সল ক্রেসপো। ডানদিক থেকে বিপিনের সেন্টার হেড করেন রাহুল ভেকে। ফিরতি বলে গোল লক্ষ্য করে শট মারেন সল। তাঁর শট চিঙ্গলেনসানার পায়ে লেগে ডিফ্লেক্ট হয়ে আবারও সলের পায়ে যায়। এবার আর তিনি ভুল করেননি। তাঁর ডান পায়ের শট সোজা গোলে। ৭১ মিনিটে আবারও ধাক্কা। পরিবর্ত হিসেবে নামা সোহমের বাড়ানো লং বল ধরে রায়ান উইলিয়ামস হেলায় মাটি ধরালেন প্রভসুখন গিলকে। পোস্টের ডানদিক থেকে ফাঁকা গোলে ছোট্ট টোকাতেই বাকি কাজ সারলেন। ঠিক যখন মনে হচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল হারের মুখে সেই সময়েই দুরন্ত কামব্যাক। বিপিনের ক্রস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে বাঁ-পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন অ্যান্টন সলজবার্গ।

এদিনের ম্যাচের পর ইস্টবেঙ্গল আপাতত ১৫ পয়েন্ট লিগ টেবিলে তিন নম্বরে।