আজকাল ওয়েবডেস্ক: মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আইনি জটিলতায় জড়ালেন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সূত্রে খবর, সিডনিতে পুলিশের ব্রেথ টেস্টে তাঁর রক্তে অ্যালকোহল পাওয়া যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ওয়ার্নারের শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনি সীমার দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া গিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৫ এপ্রিল। সিডনির পূর্বাঞ্চলে ওয়ার্নারের গাড়ি থামায় পুলিশ। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে পরীক্ষায় তাঁর ব্লাড অ্যালকোহল কনসেন্ট্রেশন ধরা পড়ে ০.১০৪। এই পরিমাণ নির্ধারিত সীমার অনেকটাই উপরে।

বর্তমানে বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি থান্ডারের অধিনায়ক ওয়ার্নার বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হননি। মামলার শুনানি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ জুন ফের মামলার শুনানি হবে।

ওয়ার্নারের আইনজীবী ববি হিল জানান, প্রাক্তন অজি ওপেনার নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং পরবর্তী শুনানির দিন দোষ স্বীকার করতে পারেন তিনি। হিল বলেন, ‘ও জানে ও যা করেছে তা ভুল। উবের নেওয়ার বদলে গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল সেটা ও নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে।’

আইনজীবীর দাবি, ইস্টার সানডের দিন এক বন্ধুর বাড়িতে তিন গ্লাস ওয়াইন পান করেছিলেন ওয়ার্নার। এরপর তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

হিল আরও দাবি করেন, পুলিশ থামানোর মাত্র ১১ মিনিট আগে শেষ পেগ নিয়েছিলেন ওয়ার্নার। পরে দ্বিতীয়বারের ব্রেথ টেস্টে প্রায় ৫২ মিনিট দেরি হয়েছিল।

ওয়ার্নার অনুতপ্ত বলেও জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, নিউ সাউথ ওয়েলসের সাধারণ নাগরিকদের মতোই আইনি শাস্তির মুখোমুখি হবেন এই ক্রিকেটার।

এই ঘটনার জেরে সিডনি থান্ডারের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ার্নারের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী লি জার্মন বলেন, ‘অভিযোগগুলি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। নিরাপদ ভাবে গাড়ি চালানোর পক্ষে আমরা সবসময়ই সওয়াল করে এসেছি।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১১২টি টেস্টে ৮,৭৮৬ রান করেছেন তিনি, গড় ৪৪-এর বেশি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৩৩৫ রানের ইনিংস তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

তবে ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বল বিকৃতির কেলেঙ্কারিতেও অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন ওয়ার্নার। সেই ঘটনায় তাঁকে ১২ মাস আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত করা হয়েছিল।