আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হওয়ার পর অবশেষে প্রতিক্রিয়া জানালেন বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা।
মঙ্গলবার তিনি জানান, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক এবং এতে টুর্নামেন্ট আরও সফল হবে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকার তাদের আগের সিদ্ধান্ত বদলে জানায়, পাকিস্তান ক্রিকেট দল ম্যাচে অংশ নেবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ভারতে না যাওয়ার কারণে কোনও শাস্তি দেবে না বলে নিশ্চিত করার পরই পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে রবিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আইসিসির দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে বৈঠক করে।
সেই বৈঠকেই আইসিসির কাছে কিছু দাবি জানানো হয়। পরে আইসিসি নিশ্চিত করে যে বিসিবির বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং ২০৩১ সালের আগে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের অধিকার দেওয়া হবে।
এরপরই পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজীব শুক্লা আইসিসির ভূমিকাকে প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ‘আইসিসি প্রতিনিধি দল, আইসিসি চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে লাহোরে গিয়ে পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করে যে সমাধান বের করেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। ক্রিকেটের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের সকলের জন্য ভাল খবর।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সমস্যার সমাধান করে ক্রিকেটকে আবার সামনে নিয়ে আসার জন্য আইসিসি বড় ভূমিকা নিয়েছে। পাকিস্তানকে আলোচনার টেবিলে এনে শেষ পর্যন্ত কলম্বো ম্যাচে খেলতে রাজি করানো আইসিসির বড় সাফল্য। এজন্য আইসিসিকে ধন্যবাদ জানাই।’
শুক্লা জানান, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে সব জটিলতা দূর হওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন সফল টুর্নামেন্টে পরিণত হবে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হলেও পিসিবি ও আইসিসির দ্বন্দ্ব পুরো টুর্নামেন্টকে ছাপিয়ে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য ভাল খবর। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং পাকিস্তানও খেলবে। ফলে এই বিশ্বকাপ বড় সাফল্য পাবে। আলোচনার ফলে বাংলাদেশের দাবিদাওয়াও কিছুটা পূরণ হয়েছে এবং তাদের বোর্ডও সন্তুষ্ট।’
একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ না হলে আইসিসির ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার ক্ষতি হত। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১,৫৭৫ কোটি ৬১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা।
এই ক্ষতি এড়িয়ে যাওয়ায় স্বস্তিতে ক্রিকেট খেলিয়ে দেশগুলিও। কারণ, আইসিসি যদি এই বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হত, তাহলে সদস্য দেশগুলিও অনেক কম টাকা পেত।
সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপে নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী তারা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির।
তার আগে রবিবার আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক হয় নকভির। সেই বৈঠকের ব্যাপারে নকভি জানান শরিফকে।
সেখানেই তিনি বলেন যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফে পাকিস্তানকে অনুরোধ করা হয়েছে ভারত ম্যাচ খেলার জন্য। একই অনুরোধ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং শ্রীলঙ্কা থেকেও।
এই অনুরোধের পর পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এটা ঘটনা, পাকিস্তান সরকার সোমবার রাতে বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘বিভিন্ন আলোচনার নির্যাস এবং বন্ধু দেশগুলির অনুরোধের পর পাকিস্তান সরকার সে দেশের ক্রিকেট দলকে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটের সংস্কৃতিকে রক্ষা করা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে ক্রিকেটকে আরও বেশি করে জনপ্রিয় করে তোলার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
আবার এটাও ঘটনা, সোমবার রাতে বিসিবি–র তরফেও প্রথমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তানকে ভারত–ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানানো হয়। পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ না খেলার কারণ ছিল, বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বহিষ্কার করা।
এদিকে, আইসিসিও সোমবার রাতে বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশকে কোনও আর্থিক, ক্রীড়াভিত্তিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না।’
বৈঠকে হওয়া আলোচনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০৩১ এর মধ্যে বাংলাদেশে একটি আইসিসি প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০৩১ একদিনের বিশ্বকাপের আগেই এই প্রতিযোগিতা হবে।
