আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মিটেছে ‘‌যুদ্ধ’‌। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের। বোর্ড পরিচালক নাজমুল ইসলামের অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যে বিপিএলের ম্যাচ বয়কটের পথে হেঁটেছিলেন, তা শেষ হয়েছে শুক্রবার। চব্বিশ ঘণ্টা স্থগিত থাকার পর পুনরায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু তবুও বিতর্ক থামেনি।


বয়কট তোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশ প্লেয়ার্স সংস্থার প্রধান মহম্মদ মিঠুন পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বোর্ডের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার কারণে তাঁকে খুনের হুমকি পর্যন্ত পেতে হয়েছিল!


প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে ‘ভারতের দালাল’ বলে মহাবিতর্কে জড়িয়েছিলেন নাজমুল ইসলাম। যা নিয়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটমহলে। এমনিতেই মুস্তাফিজুর রহমান বিতর্কে বাংলাদেশ আসন্ন টি–২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আদৌ আসবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে বিশ্বকাপ না খেললে, বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। আর্থিক ক্ষতিতে পড়বেন ক্রিকেটাররাও। তা নিয়ে বাংলাদেশ বোর্ড পরিচালক নাজমুলকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সটান বলে দেন যে, ক্রিকেটারদের পিছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করা সত্ত্বেও তাঁরা আজ পর্যন্ত বিশ্ব পর্যায়ের টুর্নামেন্টে কিছুই করতে পারেননি। তার জন্য কি তাদের থেকে টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে? কোন মুখে ক্ষতিপূরণ চাইবেন ক্রিকেটাররা?


এরপরেই বিস্ফোরণ ঘটে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটমহলে। মহম্মদ মিঠুন নেতৃত্বাধীন প্লেয়ার্স সংস্থা ঘোষণা করে, নাজমুল পদত্যাগ না করলে, কিংবা তাঁকে বহিষ্কার না করা হলে, বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা কোনও ধরনের ক্রিকেট খেলবেন না। বৃহস্পতিবার বিপিএলের ম্যাচ খেলতে নামেননি তাঁরা। যার পর বাংলাদেশ বোর্ড বাধ্য হয় নাজমুলকে আংশিক শাস্তি দেয়। বোর্ড পরিচালক পদ থেকে তাঁকে না সরানো হলেও, নাজমুলকে ফিনান্স কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।


আর এরপরই মিঠুনের বিস্ফোরক দাবি। জানিয়ে দেন যে, প্লেয়ারদের স্বার্থ দেখার ‘অপরাধে’ তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত পেতে হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‌জীবনে কখনও এ জিনিস হয়নি আমার সঙ্গে। এই প্রথম প্রাণনাশের হুমকি পেলাম। কখনও আমি বিতর্কে জড়াইনি। আমি তো বুঝতেই পারছি না যে, দেশবিরোধী কথা আমি কোথায় বললাম? দেশের অসম্মান করে কখনও কিছু বলিনি আমি। আর এটা আমার ব্যক্তিগত সমস্যাও নয়। প্লেয়ার্স সংস্থার প্রেসিডেন্ট হয়ে যদি ক্রিকেটারদের স্বার্থ আমি না দেখি, তাহলে পদে থেকে আমার লাভ কী।’‌
অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর ইফতেকার বলেছেন, ‘‌আমাদের নিরাপত্তা বিভাগ রয়েছে। আমিও প্লেয়ারদের এই সমস্যার কথা শুনলাম। আমরা নিরাপত্তা বিভাগকে বলেছি বিষয়টি দেখে নিতে। এই বিষয়টাকে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখছি।’‌