আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ খেলতে নেমেছে পাকিস্তান। আর প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেয়েছে সলমন আঘার দল।
প্রথম একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে আট উইকেটে হেরে লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। মাত্র ১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১৫.১ ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়।
প্রথম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস, গোটা পাকিস্তান দল মাত্র ৩০.৪ ওভার ব্যাট করে। বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা দুর্দান্ত বোলিং করে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে বড় ভূমিকা নেন।
এই পরাজয়ের পর পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার মহম্মদ আমির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের পর ফেসবুকে আমির লিখেছেন, ‘এবার আমরা বাংলাদেশের কাছেও হারতে শুরু করেছি। আমার ভয় হচ্ছে, হয়তো আমরা একসময় অ্যাসোসিয়েট দলের পর্যায়ে নেমে যাব।’
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর বড়সড় পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ সিরিজে খেলতে নেমেছে পাকিস্তান। এই সিরিজে দলে রাখা হয়নি বাবর আজমকে।
এই প্রসঙ্গে আমির বলেন, ‘শুধু সিনিয়র ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে তরুণদের নিয়ে দল গঠন করলে হবে না। দলে অভিজ্ঞতারপও প্রয়োজন আছে।’
তরুণ ব্যাটারদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে অনেক তরুণ ক্রিকেটার শুধু মিড-উইকেটের দিকেই শট খেলতে চায়। অফ স্টাম্পের বাইরের বল কীভাবে খেলতে হয়, তারা যেন জানেই না। শামিল হুসেন মিড-উইকেটে শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছে। তরুণ ব্যাটারদের বুঝতে হবে, অফ সাইডেও রান করা যায়।’
বোলিং নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আমির। পাক পেসারের কথায়, ‘যে উইকেটে আমরা ব্যাট করতে গিয়ে এত সমস্যায় পড়লাম, সেই একই উইকেটে বাংলাদেশ খুব সহজেই লক্ষ্য তাড়া করে ফেলল।’
তবে পাকিস্তানের দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সমর্থক। একাধিক অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে প্রথম একাদশে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
একজন পাক সমর্থক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ঠিক আছে, কিন্তু দলে অন্তত মৌলিক ব্যাটিং শৃঙ্খলা থাকা দরকার। এই ধস আগামীদিনে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও এই পরাজয়কে ‘চমকে দেওয়া ধস’ বলে উল্লেখ করেছে এবং নাহিদ রানার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের আধিপত্যের কথা তুলে ধরেছে।
