আজকাল ওয়েবডেস্ক: অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনে বুধবার অ্যানফিল্ডে লিভারপুল সমর্থকদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে লাল কার্ড দেখার পর অন্য দাবি করে বসলেন। জানালেন, ম্যানেজারদেরও সমর্থকদের অপমান থেকে সুরক্ষা দেওয়া উচিত। বুধবার ভারতীয় সময় মধ্যরাতে অ্যানফিল্ডে অ্যাটলেটিকো মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুলের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৯২ মিনিটে ভার্জিল ভ্যান ডাইক হেড করে জয়সূচক গোল দেওয়ার পর দর্শক আসন থেকে আসা কটূক্তির জবাব দেন সিমিওনে। ম্যাচটি শেষ হয় লিভারপুলের ৩-২ জয়ে। সিমিওনে পরে স্বীকার করেন তাঁর প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল না, তবে একই সঙ্গে বলেন, যেভাবে ফুটবলে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হয়, তেমনই ম্যানেজারদেরও নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিক্রিয়া ন্যায্য নয়, কিন্তু জানা উচিত ৯০ মিনিট ধরে গালিগালাজ সহ্য করা কেমন ব্যাপার? আমরা উত্তর দেওয়ার অধিকার রাখি না। আমি আশা করি লিভারপুল এই দিকটা উন্নত করবে এবং যারা এটা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট অবশ্য জোর দেন টানটান ম্যাচের মানটাই যেন আলোচনার কেন্দ্র হয়। তাঁর দল টানা পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে ৮০ মিনিটের পর গোল করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। স্লট বলেন, ‘এটা শুধু মানসিক শক্তি নয়, আমাদের ফিটনেস, প্রস্তুতি আর মানের ফল। আমরা দু’গোলে এগিয়ে থাকার পরেও অ্যাটলেটিকো আমাদের চাপে ফেলে দিয়েছিল’।
তবে তিনি কিছুটা হতাশও, কারণ আবারও দেরিতে গোল করে জিততে হয়েছে। বিশেষত এবার যেখানে নতুন আক্রমণভাগ রয়েছে দলের। রেকর্ড দামে দলে আসা আলেকজান্ডার ইসাক প্রথমবার শুরুর একাদশে নামেন। স্লটের মন্তব্য, ‘এমন ম্যাচ যেন কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালের মতো। এত আক্রমণ তৈরি করেও আগে তৃতীয় গোলটা আসেনি, এটা হতাশাজনক।’ অন্যদিকে, দাপটের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান শুরু করল গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। ঘরের মাঠে আটালান্টাকে ৪–০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লুইস এনরিকের ছেলেরা। অন্যদিকে দিনের সবথেকে আকর্ষণীয় ম্যাচে ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ী চেলসিকে হারাল বায়ার্ন মিউনিখ।
বুধবার রাতে ফ্রান্সের পার্ক দে প্রিন্সেসে ইতালির ক্লাব আটালান্টাকে ৪–০ গোলে হারাল প্যারিস সাঁ জাঁ। ম্যাচের ৩ মিনিটেই প্রথম গোল করেন অধিনায়ক মারকুয়েজ। এর পর নিয়মিত ব্যবধানে গোল করতে থাকে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ৩১ মিনিটে খভিচা খভারাতসখেলিয়া দ্বিতীয় গোলটি করেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় পিএসজি। ৫১ তম মিনিটে বারকোলার পাস থেকে নুনো মেন্ডেজ চমৎকার ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন করেন ৩–০। ইনজুরি টাইমে আটালান্টার ডিফেন্ডারের ভুলে পাওয়া বল থেকে গনসালো রামোস সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চতুর্থ গোলটি করেন।
এদিকে, হেভিওয়েটদের লড়াইয়ে চেলসিকে ৩–১ গোলে হারায় বায়ার্ন। আলিয়াঞ্জ অ্যারিনায় ম্যাচের ২০ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বসেন চেলসি ডিফেন্ডার ট্রেভর চালোবা। মিনিট সাতেক বাদে আবার বায়ার্ন পেনাল্টি পেয়ে যায়। এবার বক্সে হ্যারি কেনকে ফাউল করেন কাইসেডো। স্পট থেকে গোল করতে ভুল করেননি কেন। এরপর অবশ্য পাল্টা আঘাত হানে চেলসিও। ২৯ মিনিটে কোল পালমারের গোলে ব্যবধান কমায় লন্ডনের ক্লাবটি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে চেলসিকে আর প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেয়নি বায়ার্ন। একের পর এক আক্রমণে তাঁরা বিদ্ধ করেন চেলসিকে। ৬৩ মিনিটে ফের গোল পান কেন। এই গোলের ফলে নয়া রেকর্ডের মালিক হন কেন। রোনাল্ডো এবং নেইমারের পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুটি ক্লাবের হয়ে ২০ টির বেশি গোল করলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
