আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে মাদ্রিদ ডার্বিতে দিয়েগো সিমিওনে এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের মধ্যে উত্তপ্ত টাচলাইন বিতর্কের পর অবশেষে মুখ খুলল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
দিয়েগো সিমিওনে ও রিয়াল তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রের মধ্যে সংঘর্ষ ঘিরে বিতর্ক ইতিমধ্যেই অনেকটাই বেড়েছে। তবে অ্যাটলেটিকো এই চলতি বিতর্কে প্রতিক্রিয়ার চেয়ে ঘটনার প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়েছে বেশি।
সুপারকোপা ডি এসপানার সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২–১ গোলে হারতে হয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে। ম্যাচের শেষ দিকে ভিনিসিয়াস বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় অ্যাটলেটিকোর টেকনিক্যাল এরিয়ার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন।
সেই মুহূর্তেই এই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে, দিয়েগো সিমিওনে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারকে উদ্দেশ করে কিছু মন্তব্য করছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই মন্তব্যে রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের নামও উঠে এসেছে।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ সিমিওনের পাশে দাঁড়িয়ে লেখে, ‘কিছু মানুষ একটি প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করতে যত সময় ব্যয় করেন, উসকানির বিষয়টি পরিষ্কার করতে ততটাই কম সময় দেন। এটা সত্যিই কৌতূহলজনক। এই পদ্ধতিটা অবশ্য নতুন নয়।’
৮১তম মিনিটে ভিনিসিয়াস মাঠ ছাড়ার সময় উত্তেজনা চরমে ওঠে। সিমিওনের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন ভিনিসিয়াসও। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জাবি আলোনসো হস্তক্ষেপ করেন।
তিনিও অবশ্য সিমিওনেকে ছেড়ে কথা বলেননি। নিজের দলের খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়ে পুরোপুরি সমর্থন করেন। পরে ভিনিসিয়াসকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়, এবং টাচলাইনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাচের পরও জাবি আলোনসো সিমিওনের আচরণ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, অ্যাটলেটিকো কোচ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন।
এমনকী, একজন খেলোয়াড়ের প্রতি সম্মান ও ফেয়ার প্লে দেখানোর শালীনতাটুকুও বজায় রাখেননি তিনি। অন্যদিকে, সিমিওনে গোটা ঘটনাটিকেই গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ম্যাচের পরে তিনি বলেন, মাঠের ঘটনা মাঠেই থাকা উচিত। তবে ভিনিসিয়াসকে তিনি কী বলেছিলেন সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।
তাঁর এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক থামাতে পারেনি। বরং ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়ে দুই ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এই ঘটনার মধ্যেই ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ ও সৌদি প্রো লিগের প্রতি আগ্রহের খবর আবারও সামনে এসেছে।
তবে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ বারবার এসব গুঞ্জন নাকচ করে জানিয়ে এসেছে, ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ভিনিসিয়াস গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে মাঠের বাইরের বিতর্ক পিছনে ফেলে এখন রিয়াল মাদ্রিদের লক্ষ্য স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল। রবিবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে আরেকটি ‘এল ক্লাসিকো’ অপেক্ষা করছে রিয়ালের জন্য।
