ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমতেই বুধবার লাল সূচকে খুলল ভারতীয় শেয়ারবাজার। বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বেঞ্চমার্ক সেনসেক্স ১,৭০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায় এবং নিফটি প্রায় ৫০০ পয়েন্ট স্লিপ করে। বিক্রির চাপে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।
2
9
এদিন নিফটি ৫০ প্রায় ২.০৬ শতাংশ বা ৫১৭ পয়েন্ট নেমে ২৪,৩৪৪.০৫-এ লেনদেন করছিল। একই সময়ে সেনসেক্স ২.১৭ শতাংশ বা ১,৭০০ পয়েন্ট পড়ে ৭৮,৫৯৬.৪৫-এ পৌঁছয়।
3
9
বাজার খোলার আগেই দুর্বলতার ইঙ্গিত মিলেছিল। গিফট নিফটি ২৪,৪৩১-এ কোট করছিল, যা আগের তুলনায় ৫৫১ পয়েন্ট বা ২.২১ শতাংশ কম—বিনিয়োগকারীরা যে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছিলেন, তা স্পষ্ট ছিল।
4
9
হোলির ছুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার বাজার বন্ধ থাকার পর বুধবার লেনদেন শুরু হয় এক নড়বড়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে। সোমবার নিফটি ২৪,৬০৩-এ বন্ধ হয়েছিল, যেখানে আর্থিক, অটো ও ভোক্তা পণ্যের শেয়ারে চাপ দেখা গিয়েছিল। সেই চাপই বুধবার বাজার খোলার সময় আরও তীব্র হয়।
5
9
দুর্বলতা শুধু ভারতে সীমাবদ্ধ ছিল না। এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও পতনের ধারা জারি। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রাথমিক লেনদেনে ৭ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায় এবং পরে ৬.৬ শতাংশ নিম্নমুখী ছিল। জাপানের নিক্কেই ২২৫ প্রায় ৩.২৩ শতাংশ পড়ে, আর হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে।
6
9
রাতারাতি মার্কিন বাজারেও অস্থিরতা ছিল। সেখানে দিনের মধ্যে প্রায় ৮০০ পয়েন্ট ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ পয়েন্ট নিচেই বন্ধ হয়। এতে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার আবহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
7
9
মুদ্রাবাজারেও চাপ স্পষ্ট। ভারতীয় টাকা ৫৫ পয়সা দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারে ৯২.০২-এ রেকর্ড নিম্নস্তরে খোলে। ডলারের বিপরীতে টাকার এই পতন আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা জোরদার করছে।
8
9
এদিকে সংঘাতের জেরে অপরিশোধিত তেলের দামও উর্ধ্বমুখী। ক্রুড ফিউচারস ব্যারেল প্রতি ৮২.৭৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা জুলাই ২০২৪-এর পর সর্বোচ্চ। মাত্র চার সেশনে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে তেলের দাম। ভারত মতো বড় আমদানিকারক দেশের জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি ও বাণিজ্য ব্যাঘাত অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
9
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। বিনিয়োগকারীদের এখন সতর্ক অবস্থান নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।