আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের মানেই খাওয়াদাওয়া, সাজগোজ আর একের পর এক আনুষ্ঠানিক আচার-ব্যবহারের উৎসব। যার মধ্যে একটি অন্যতম রীতি হল গায়ে হলুদ। প্রথা অনুযায়ী, বিয়ের দিন সকালে হলুদ মেখে স্নান করেন বর-কনে। পাত্র-পাত্রী, উভয়ের বাড়িতেই হলুদ দেওয়া-নেওয়ার রীতি রয়েছে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, বিয়ের সঙ্গে গায়ে হলুদ মাখার কী সম্পর্ক রয়েছে? আসুন জেনে নেওয়া যাক-
ভারতীয় সংস্কৃতি অনুসারে, হলুদ আশীর্বাদের প্রতীক। পুরাণ বলছে, শুভ ও ইতিবাচক হলুদের সংস্পর্শে নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। বর-কনেকে কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করে হলুদ। শুভ ও মঙ্গলদায়ক হওয়ায় হলুদ পাত্র-পাত্রীর দীর্ঘ ও স্বাস্থ্যকর দাম্পত্য জীবনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।
এরই সঙ্গে বিয়ের দিন হলুদ মেখে স্নান করার বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। হলুদ হল জীবাণুনাশক। যা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। হলুদের এই সুরক্ষা বর্মের জন্যই বিয়ের অনুষ্ঠানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে গায়ে হলুদের প্রথা। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, হলুদ আমাদের শরীর ও মনকে শুদ্ধ করে। তাই বিয়ের অনুষ্ঠানে হলুদের ছোঁয়া থাকা শুভ বলে মনে করা হয়।
বিয়ে জীবনের একটা অত্যন্ত বিশেষ দিন। এই দিনে নিজেকে সুন্দর দেখাতে কে না চায়! আর হলুদ ত্বকের জন্যও খুব ভাল। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে গায়ে হলুদ মেখে স্নান করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। ত্বকের মরা কোষ সরিয়ে হলুদের প্রলেপ ত্বককে ঝলমলে করে তোলে।
বিয়ের আগে নানা কারণে দুশ্চিন্তায় ভোগেন অনেকেই। আর তা থেকে মাথা ধরা বা গা-বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। হলুদ মাথা যন্ত্রণা ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক ভাবেই বিয়ের আসরে হলুদের কদর আলাদা।
অনেকেই বিশ্বাস করেন, হলুদের স্পর্শে বর-কনের উপর অশুভ শক্তির প্রভাব পড়ে না। এই কারণেই বর-কনেকে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের পর বিয়ের মুহূর্ত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়। প্রথা হিসাবে পালিত হলেও, হলুদের উপকারিতা কম নয়।
