ব্যস্ত জীবনে বেশিরভাগ মানুষের খুব দ্রুত খাবার খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। অফিসের তাড়া, কাজের চাপ বা সময়ের অভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্লেট খালি করতে দেখা যায় অনেককেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই তাড়াহুড়ো করে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ভাল নয়। এতে অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
মুম্বইয়ের এক সার্জেনের মতে, আমরা যখন খাবার খাই তখন শরীরের ভেতরে কিছু হরমোন কাজ করতে শুরু করে। এই হরমোনগুলো মস্তিষ্ককে জানায় যে পেট ভরেছে কিনা। কিন্তু এই বার্তার মস্তিষ্কে পৌঁছতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। তাই কেউ যদি খুব দ্রুত খাবার খেয়ে ফেলেন, তাহলে শরীরের 'পেট ভরে গিয়েছে' সংকেত পাওয়ার আগেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন। ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে এবং সময়ের সঙ্গে ওজন বাড়তে শুরু করে।
চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত খাওয়ার কারণে শুধু ওজনই বাড়ে না, হজমের সমস্যাও হতে পারে। কারণ খাবার ভাল করে চিবিয়ে না খেলে তা পেটের জন্য হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে গ্যাস, অম্বল, পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসক আরও বলেছেন, আজকাল অনেকেই প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ফাস্ট ফুড বেশি খেয়ে থাকেন। এই ধরনের খাবার সাধারণত খুব দ্রুত খাওয়া যায় এবং এতে ক্যালরিও বেশি থাকে। ফলে মানুষ বুঝতে না পেরে অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন।
তবে খাওয়ার গতি কমানোর জন্য খুব কঠিন কিছু করতে হবে না। কয়েকটি সহজ উপায়েই এই অভ্যাস বদলানো সম্ভব। যেমন- খাওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে খাবারের গন্ধ নেওয়া বা ভাল করে দেখা। এতে শরীর ধীরে ধীরে খাবারের জন্য প্রস্তুত হয় এবং খাওয়ার গতি কিছুটা কমে যায়।
প্রতিটি খাবার ধীরে ধীরে ও ভাল করে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি গ্রাস অন্তত ২০ থেকে ৩০ বার চিবিয়ে খাওয়া ভাল। এতে খাবার সহজে হজম হয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনাও কমে। এছাড়া এক একটি গ্রাস নেওয়ার মাঝে কয়েক সেকেন্ড বিরতি নেওয়াও উপকারী। এতে শরীর বুঝতে পারে পেট কতটা ভরেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে শুধু খাবারের ধরন নয়, খাওয়ার পদ্ধতিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই ধীরে ধীরে, সময় নিয়ে খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হজম ভাল রাখা-দুটোই সহজ হয়।
