পুরুষদের জন্য সহজ ও কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজতে বহুদিন ধরেই গবেষণা চলছে। এবার সেই পথে বড়সড় অগ্রগতি মিলেছে। বিজ্ঞানীরা এডিএএম নামের একটি নতুন ইনজেকশনভিত্তিক পুরুষ গর্ভনিরোধক তৈরি করেছেন, যা প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে টানা দুই বছর পর্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। 

এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি নন-হরমোনাল। অর্থাৎ, এতে শরীরের হরমোনের কোনও পরিবর্তন হয় না। ফলে হরমোনজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি একটি বিশেষ ধরনের জল-দ্রবণীয় জেল (হাইড্রোজেল)। খুব ছোট একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জেলটি পুরুষের শরীরের ভাস ডিফারেন্স-এ প্রবেশ করানো হয়। এই নালী দিয়েই সাধারণত শুক্রাণু বাইরে আসে। জেলটি সেখানে গিয়ে একটি বাধা তৈরি করে, ফলে শুক্রাণু বেরতে পারে না।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এতে যৌন জীবনে কোনও পরিবর্তন আসে না। বীর্যপাত স্বাভাবিকভাবেই হয় এবং কোনও অস্বস্তি বা অনুভূতির পরিবর্তন হয় না।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ইনজেকশন দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই শুক্রাণুর চলাচল ক্ষমতা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় (৯৯.৮% থেকে ১০০% পর্যন্ত কমে যায়)। অর্থাৎ, গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসে।

আরও ভাল খবর হল, এই প্রভাব এক-দু’দিন নয়, টানা ২৪ মাস পর্যন্ত থাকে। এই সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কোনও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

এই পদ্ধতির আরেকটি বড় সুবিধা হল, এটি স্থায়ী নয়। নির্দিষ্ট সময় পরে জেলটি নিজে থেকেই গলে যায় এবং শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তখন আবার স্বাভাবিকভাবে শুক্রাণু চলাচল শুরু হয়, অর্থাৎ প্রজনন ক্ষমতাও ফিরে আসে। এই কারণে এটি ভ্যাসেকটমির মতো স্থায়ী অপারেশনের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে। যারা ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা রাখেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী হতে পারে।

বর্তমানে এই নতুন গর্ভনিরোধক পদ্ধতির দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে ভবিষ্যতে এটি বাজারে আসতে পারে।

সবমিলিয়ে, এই আবিষ্কার পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণে নতুন দিশা দেখাতে পারে। সহজ, নিরাপদ এবং অস্থায়ী-এই তিন গুণ মিলিয়ে এটি ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।