মধ্য এশিয়ার জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন নৌ অবরোধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার জেরে দৈনিক প্রায় ৩০ লক্ষ ব্যারেল উৎপাদন থেকে পরিস্থিতি গিয়ে দাঁড়াতে পারে সম্পূর্ণ বন্ধের মুখে।
2
7
বর্তমানে ইরানের তেল ট্যাঙ্কারগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছতে পারছে না। মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রপথে তেল পরিবহন কার্যত থমকে গেছে। ফলে দেশের ভেতরে তেল মজুত বাড়ছে, কিন্তু রপ্তানি না হওয়ায় সেই তেল সংরক্ষণের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল উৎপাদন কমানো ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকবে না তেহরানের সামনে।
3
7
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, তেল কূপে একবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে তা পুনরায় চালু করা অত্যন্ত কঠিন এবং ব্যয়বহুল। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে কূপের ভেতরে চাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অর্থাৎ, এই সংকট কেবল সাময়িক নয়, ইরানের জ্বালানি খাতের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
4
7
এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও। তেল রপ্তানি থেকে আয় ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ভরসা। রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে, যার ফলে সরকারি খরচ, ভর্তুকি এবং সামাজিক পরিষেবায় কাটছাঁট হতে পারে। এর পাশাপাশি তেল শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় দিন গুনছেন।
5
7
শুধু ইরান নয়, এই সংকটের অভিঘাত পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারেও। বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আমদানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও চাপ সৃষ্টি করবে।
6
7
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ মূলত রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল। তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্বের জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি যদি দ্রুত সমাধানের পথে না যায়, তাহলে তা বিশ্ব অর্থনীতির উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
7
7
সব মিলিয়ে, মার্কিন অবরোধে ইরানের তেল শিল্প এখন গভীর সংকটে। উৎপাদন থেকে রপ্তানি—সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।