ডায়াবেটিস হলে একাধিক বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে খাওয়াদাওয়ায় বাড়তি সচেতনা জরুরি। এমনকী ফল অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সব ফল ঠিক নয়।
2
12
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ফলের ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ ও প্রাকৃতিক চিনি এত বেশি যে তা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণত যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫–এর নিচে, সেগুলোকে ডায়াবেটিসবান্ধব বলা হয়। এই ফলগুলি পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বাড়ার আশঙ্কা কম থাকে।
3
12
যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬৯ এর মধ্যে বা এর বেশি, সেগুলো হিসাব করে খেতে পারেন। তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন কোন ফল খাবেন না, বদলে কী খাবেন, জেনে নিন-
4
12
আমঃ আম খুব সুস্বাদু হলেও এতে প্রচুর চিনি থাকে। এক-দুই টুকরো খাওয়া ঠিক আছে, কিন্তু বেশি খেলে সুগার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
5
12
কলাঃ কলা শরীরে এনার্জি দেয় ঠিকই। কিন্তু এতে কার্বোহাইড্রেট বেশি। বিশেষ করে বেশি পাকা কলা দ্রুত সুগার বাড়ায়। তাই একসঙ্গে একাধিক কলা খাওয়া ঠিক নয়।
6
12
আঙুর: আঙুরও একটু সাবধানে খেতে হবে। দেখতে ছোট হলেও এতে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি। তাই একমুঠোর বেশি না খাওয়াই ভাল।
7
12
লিচুঃ লিচু গরমকালের খুব জনপ্রিয় ফল। কিন্তু এটি খুব মিষ্টি হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে খালি পেটে লিচু খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়।
8
12
চেরি: চেরিও এমন একটি ফল, যা বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে। এতে সুগার তুলনামূলক বেশি থাকায় পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
9
12
ডায়াবেটিস থাকলে এমন ফল খাওয়া ভাল, যেগুলো ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়ায় না। যেমন আপেল, পেয়ারা, কমলালেবু, নাশপাতি এবং বিভিন্ন বেরি জাতীয় ফল। এই ফলগুলিতে ফাইবার বেশি থাকে, ফলে পেটও ভরে এবং সুগারও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
10
12
কীভাবে ফল খাবেন? ফলের জুস না খেয়ে পুরো ফল খান, একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খান, খালি পেটে না খেয়ে খাবারের সঙ্গে বা পরে খেলে ভাল, খুব বেশি পাকা ফল এড়িয়ে চলুন।
11
12
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ। আপনি কী খাচ্ছেন, তার পাশাপাশি কতটা খাচ্ছেন সেটাও খুব জরুরি।
12
12
ডায়াবেটিস থাকলেও ফল খাওয়া বন্ধ করার দরকার নেই। শুধু বুঝে-শুনে সঠিক ফল বেছে নিলেই সুস্থ থাকা সম্ভব। নিয়মিত ডায়েট মেনে চলা এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াও খুব জরুরি।