অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে এমন কিছু আচরণ থাকে, যেগুলো প্রথমে খুব স্বাভাবিক বা ভালবাসার মতো মনে হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে সেগুলোই আপনার মন, সিদ্ধান্ত আর আত্মবিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। একে বলা হয় ম্যানিপুলেশন বা মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। বিষয়টা বুঝতে পারা জরুরি, কারণ এতে আপনি অজান্তেই নিজের সত্তা হারাতে পারেন।

১. সবসময় অপরাধবোধে ভোগাঃ আপনি ঠিক কাজ করলেও বারবার মনে হয়, যেন আপনি ভুল করছেন। সামান্য বিষয়েও অপরাধবোধ তৈরি করানো ম্যানিপুলেশনের বড় লক্ষণ। 

২. নিজের ওপর সন্দেহ তৈরি হওয়াঃ আপনি নিজের সিদ্ধান্ত, স্মৃতি বা অনুভূতিকে বিশ্বাস করতে পারছেন না, এটা ‘গ্যাসলাইটিং’-এর ফল হতে পারে।

৩. কথার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়াঃ আপনি কিছু বললেও তা এমনভাবে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় যাতে শেষে দোষ আপনার ঘাড়েই পড়ে। এতে আপনি সবসময় নিজেকে দায়ী ভাবেন। 

৪. কখনও খুব ভাল, কখনও দূরত্বঃ একসময় অতিরিক্ত ভালবাসা, আবার হঠাৎ দূরে সরে যাওয়া-এই ওঠানামা আপনাকে মানসিকভাবে নির্ভরশীল করে তোলে। 

৫. সীমা ঠিক করলেই অপরাধী বানানোঃ আপনি ‘না’ বললে বা নিজের সীমা টানলে আপনাকে দোষী বা স্বার্থপর প্রমাণ করা হয়।

৬. আপনাকে আলাদা করে দেওয়াঃ বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা-এটি খুবই বিপজ্জনক লক্ষণ। এতে আপনি একা হয়ে পড়েন এবং ওই ব্যক্তির ওপরই নির্ভরশীল হয়ে যান। 

৭. মজা করে অপমান করাঃ ‘আমি তো মজা করলাম’-এই বলে বারবার আপনাকে ছোট করা হয়। এতে আপনার আত্মসম্মান কমে যায়। 

৮. সবসময় নিজেকে অসহায় দেখানোঃ ভুল করলেও ক্ষমা না চেয়ে উল্টে নিজেকে অসহায় দেখানো-এভাবে আপনাকে সহানুভূতিতে ফেলে দায় এড়িয়ে যাওয়া হয়। 

৯. আপনাকে দ্বিধাগ্রস্ত করে রাখাঃ একেক সময় একেক কথা, আচরণ-সব মিলিয়ে আপনি বুঝতেই পারেন না ঠিক কী হচ্ছে। এই বিভ্রান্তিই নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র। 

১০. আপনার আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে ভেঙে দেওয়াঃ নিয়মিত সমালোচনা, অবমূল্যায়ন-এসবের ফলে আপনি নিজেকে অযোগ্য ভাবতে শুরু করেন। 

জীবনে ম্যানিপুলেশন সবসময় চিৎকার করে আসে না, বরং নীরবে ঢুকে পড়ে। যদি বারবার মনে হয় আপনি নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন, তাহলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সম্মান, বিশ্বাস আর স্বাধীনতা, নিয়ন্ত্রণ নয়।