অনেকেই নতুন বই জামাকাপড়ের প্যাকিং খোলার সঙ্গে সঙ্গে বাবল র‍্যাপ ফাটাতে বসে যান৷ বেশ কিছুক্ষণ বাবল র‍্যাপের (Bubble Wrap) একের পর এক বুদবুদ ফাটানোর পর যেন শান্তি। অনেকের কাছে এটি শুধুই মজার অভ্যাস। কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে, এই কাজের পিছনে রয়েছে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই বাবল র‍্যাপ ফাটাতে ভাল লাগলেই কাউকে শিশুসুলভ বা অপরিণত ভাবার কোনও কারণ নেই। বরং এটি মানসিক স্বস্তি পাওয়ার একটি সহজ উপায় হতে পারে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবল ফাটানোর সময় যে ছোট্ট ‘পপ’ শব্দ শোনা যায় এবং আঙুলে যে অনুভূতি তৈরি হয়, তা মস্তিষ্কে এক ধরনের সংবেদনশীল তৃপ্তি (sensory satisfaction) সৃষ্টি করে। এই অভিজ্ঞতা মস্তিষ্ককে কিছুক্ষণের জন্য অন্য চিন্তা থেকে সরিয়ে এনে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগী হতে সাহায্য করে। ফলে মানসিক চাপ কিছুটা কমতে পারে এবং মন শান্ত লাগে। 

মনোবিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, একই ধরনের ছোট ছোট কাজ বারবার করার মধ্যে অনেকের মস্তিষ্ক স্বস্তি খুঁজে পায়। একে বলা হয় পুনরাবৃত্তিমূলক সংবেদনশীল আচরণ। বাবল র‍্যাপ ফাটানো সেই ধরনের একটি নিরীহ অভ্যাস, যা অনেকের ক্ষেত্রে উদ্বেগ কমাতে এবং মনকে হালকা করতে সাহায্য করে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, বাবল র‍্যাপ ফাটানোর পরে অনেকেই আগের তুলনায় বেশি শান্ত ও সতেজ অনুভব করেন। এই কাজ মনোযোগ বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এটি কোনও চিকিৎসা বা মানসিক সমস্যার সমাধান নয়, তবে দৈনন্দিন চাপের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি এনে দিতে পারে। 

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনও নির্দিষ্ট অভ্যাস এতটাই বেড়ে যায় যে তা দৈনন্দিন জীবন, কাজ বা সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিন্তু শুধুমাত্র বাবল র‍্যাপ ফাটাতে ভাললাগে বলেই উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।
তাই পরের বার যদি কোনও পার্সেলের বাবল র‍্যাপ হাতে পেয়ে একের পর এক বুদবুদ ফাটাতে ইচ্ছে করে, নিজেকে দোষ দেবেন না। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, এটি হতে পারে আপনার মস্তিষ্কের চাপ কমিয়ে সামান্য আনন্দ ও তৃপ্তি খোঁজার একেবারে স্বাভাবিক উপায়।